Logo
Logo
×

জাতীয়

ফ্যামিলি কার্ডে ২৮ লাখ মানুষ দারিদ্র্য থেকে বের হতে পারে: বিশ্বব্যাংক

Icon

যুগের চিন্তা ২৪ অনলাইন

প্রকাশ: ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৩৩ পিএম

ফ্যামিলি কার্ডে ২৮ লাখ মানুষ দারিদ্র্য থেকে বের হতে পারে: বিশ্বব্যাংক

একাধিক খাদ্য ভর্তুকি কর্মসূচিকে একীভূত করে বিদ্যমান নগদ সহায়তা কর্মসূচির সঙ্গে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কার্যকরভাবে যুক্ত করা গেলে বাংলাদেশের অতিরিক্ত ২৮ লাখ ৫০ হাজার মানুষকে দারিদ্র্য থেকে মুক্ত করা সম্ভব হতে পারে বলে জানিয়েছে বিশ্বব্যাংক।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) প্রকাশিত ‘বাংলাদেশ উন্নয়ন হালনাগাদ’ প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সীমিত সরকারি সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিগুলো আরও সুনির্দিষ্টভাবে দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছে দিতে হবে।

বিশ্বব্যাংকের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২৬ অর্থবছরে দেশে দারিদ্র্য ও বৈষম্য বেড়েছে। আগের বছরের তুলনায় প্রায় ২১ লাখ বেশি মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে গেছে। একই সঙ্গে কর্মসংস্থান সৃষ্টির গতি কমেছে, বিশেষ করে নারীদের কর্মসংস্থানে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বর্তমানে দেশের সবচেয়ে দরিদ্র প্রায় অর্ধেক পরিবার কোনো না কোনো কারণে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতার বাইরে রয়েছে। ফলে সরকারি সহায়তার উল্লেখযোগ্য অংশ প্রকৃত দরিদ্রদের কাছে পৌঁছাতে পারছে না।

বিশ্বব্যাংক বলছে, খাদ্যভিত্তিক ভর্তুকি কর্মসূচিগুলো সমন্বয় করা, নগদ সহায়তার সুবিধাভোগী নির্বাচন আরও কার্যকর করা এবং এর সঙ্গে ফ্যামিলি কার্ড যুক্ত করা গেলে দারিদ্র্য নিরসনে বড় ধরনের অগ্রগতি অর্জন সম্ভব হবে। একই সঙ্গে সরকারি ব্যয়ের দক্ষতাও বাড়বে।

সংস্থাটি সরকারের ‘ডায়নামিক সোশ্যাল রেজিস্ট্রি’ ব্যবস্থার গুরুত্বও তুলে ধরেছে। তাদের মতে, এ ব্যবস্থার মাধ্যমে দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে তথ্যভিত্তিকভাবে চিহ্নিত করে প্রয়োজন অনুযায়ী সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করা সহজ হবে।

প্রতিবেদনে বাংলাদেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগও প্রকাশ করেছে বিশ্বব্যাংক। সংস্থাটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ ও ২০২৭ অর্থবছরে দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ৪ শতাংশে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে।

উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বিনিয়োগে ধীরগতি এবং রপ্তানি প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়ার কারণে অর্থনীতিতে চাপ অব্যাহত রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ অর্থবছরে জিডিপির মাত্র ৮ দশমিক ৩ শতাংশ রাজস্ব আদায় হয়েছে, যা বিশ্বের অন্যতম নিম্নহার। একই সময়ে খেলাপি ঋণ বেড়ে ৩৩ দশমিক ২ শতাংশে পৌঁছেছে।

তবে শক্তিশালী প্রবাসী আয় ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধির কারণে বৈদেশিক খাতে কিছুটা স্থিতিশীলতা রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি এবং সংস্কার কর্মসূচি জোরদার করা গেলে ২০২৮ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ৯ শতাংশে উন্নীত হতে পারে বলেও পূর্বাভাস দিয়েছে সংস্থাটি।

বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটানবিষয়ক বিভাগীয় পরিচালক জ্যাঁ পেসম বলেন, অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি ও বেসরকারি বিনিয়োগনির্ভর অর্থনীতি গড়ে তুলতে ব্যাংকিং খাত, অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আহরণ এবং জ্বালানি খাতে দ্রুত ও কার্যকর সংস্কার বাস্তবায়ন জরুরি।

তার মতে, দরিদ্র জনগোষ্ঠীর সুরক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি নতুন ও উন্নত কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতেও এসব সংস্কার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

Swapno

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher

Major(Rtd)Humayan Kabir Ripon

Managing Editor

Email: [email protected]

অনুসরণ করুন