দেশে এলপিজি (তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস) বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে অতিরিক্ত মুনাফা আদায়ের চেষ্টা করছে কয়েকটি অপারেটর, এমন তথ্য উঠে এসেছে দুটি গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে। প্রতিবেদনগুলো সরকারের উচ্চপর্যায়ে পৌঁছানোর পর এ বিষয়ে শনিবার এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (লোটাব) নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন জ্বালানিমন্ত্রী।
সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রীও উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে দেশে পর্যাপ্ত এলপিজি আমদানি হওয়া সত্ত্বেও বাজারে সংকট তৈরি হওয়া এবং নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে বিক্রির কারণ জানতে চাওয়া হয় অপারেটরদের কাছে।
সরকারি সূত্র অনুযায়ী, বিভিন্ন সংস্থা ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তথ্য বলছে, দেশে চাহিদা মেটানোর মতো এলপিজি আমদানি হয়েছে। এরপরও বাজারে সরবরাহ সংকট ও মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
তবে লোটাব নেতারা মজুতের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাদের দাবি, আন্তর্জাতিক বাজারে এলপিজির দাম ও আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় বর্তমান মূল্য কাঠামো অপারেটরদের জন্য চাপ তৈরি করছে। তারা এলপিজির দাম আরও সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেছেন।
সংকটের মধ্যে বেড়েছে খুচরা দাম
বাজার সংশ্লিষ্টরা জানান, গত ২২ সেপ্টেম্বরের পর থেকে এলপিজির সরবরাহ পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। ১২ কেজির সিলিন্ডার, যার সরকারি মূল্য ১ হাজার ৫৮৫ টাকা, অনেক এলাকায় ২ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।
গোয়েন্দা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধির সুযোগ নিয়ে কিছু অপারেটর মজুত বৃদ্ধি করেছে। কেউ কেউ আগেভাগে ট্যাংকারে এলপিজি সংরক্ষণ করেছে বা আমদানি করা জাহাজ নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত দেশের উপকূলের বাইরে অবস্থান করিয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ অস্বীকার কোম্পানিগুলোর
মেঘনা গ্রুপের চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল বলেন, তাদের প্রতিষ্ঠান কোনো এলপিজি মজুত করেনি। বরং আগের তুলনায় কম এলপিজি আমদানি করেছে, যার তথ্য এনবিআরের কাছেও রয়েছে।
অন্যদিকে ওমেরা পেট্রোলিয়ামের চেয়ারম্যান আজম জে চৌধুরীও মজুতের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেন, বাজারে সরবরাহ বাড়ানোই সংকট সমাধানের মূল উপায়। তার মতে, অতিরিক্ত মূল্যবৃদ্ধি হলে গ্রাহকের ব্যবহার কমে যায়, যা ব্যবসার জন্যও ক্ষতিকর।
বিইআরসির নজরদারি
এদিকে বাজার পরিস্থিতি পর্যালোচনায় একাধিক এলপিজি কোম্পানির কাছে সেপ্টেম্বর মাসের দৈনিক বিক্রির তথ্য চেয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। কমিশন সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোকে দ্রুত এ তথ্য জমা দিতে নির্দেশ দিয়েছে।
জ্বালানি বিভাগ ও বিইআরসি সূত্র জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে এলপিজির মূল্য এবং আমদানি-সংক্রান্ত ব্যয় বেড়েছে। বিশেষ করে সৌদি আরামকোর নির্ধারিত সিপি (কনট্রাক্ট প্রাইস) বৃদ্ধির প্রভাব বাজারে পড়ছে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে অক্টোবর মাসের জন্য নতুন এলপিজি মূল্য নির্ধারণে কাজ করছে বিইআরসি।
সংশ্লিষ্টদের মতে, মজুত ও সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে তদন্তের ফলাফলের ওপর নির্ভর করবে বাজার স্বাভাবিক হবে কি না এবং মূল্য পরিস্থিতি কোন দিকে যায়।



