স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রাথমিক ধারণা
পদ্মা হাসপাতালের অবহেলায় নয়, জন্মগত ত্রুটির কারণেই ৯ মাসের শিশুর মৃত্যু
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৩২ পিএম
রাজধানীর পদ্মা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৯ মাস বয়সী শিশু আয়ান আব্দুল্লাহর মৃত্যু জন্মগত ত্রুটি ও শারীরিক নানা জটিলতার কারণে হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। তবে চিকিৎসায় কোনো ধরনের অসংগতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত অব্যাহত থাকবে। তদন্তে অবহেলা বা অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
শিশুটির মৃত্যুর পর ঘটনাটি তদন্তে পদ্মা জেনারেল হাসপাতাল পরিদর্শন করেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক জাহিদ রায়হান। রোববার রাত ৯টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটির মৃত্যু হয়।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ডায়াবেটিসজনিত সমস্যায় ১৩ দিন ধরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিল আয়ান। হাসপাতালটির এনআইসিইউতে বর্তমানে ১৭টি শিশু ভর্তি রয়েছে। তাদের সবাইকে ঢাকা শিশু হাসপাতাল থেকে সেখানে নেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
শিশুটির মৃত্যুর পর চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ করেন তার স্বজন আসিফ হাসান। রোববার মধ্যরাতে ফেসবুক লাইভে এসে তিনি অভিযোগ করেন, মৃত্যুর দিন বিকেল পর্যন্ত শিশুটি স্বাভাবিক ছিল। সন্ধ্যায় খাবার খাওয়ানোর সময় ধীরে ধীরে তার শরীর নীল হয়ে আসে। পরে পরিবারের সদস্যদের জানানো হয়, শিশুটিকে লাইফ সাপোর্ট দিতে হবে। তারা শিশুটিকে দেখতে চাইলেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দেখতে দেয়নি বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তবে হাসপাতালটির মেডিকেল অফিসার ডা. নাজমুল হক বলেন, শিশুটির হঠাৎ কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হয়। একপর্যায়ে তার শ্বাস-প্রশ্বাস বন্ধ হয়ে যায়। পরদিনই শিশুটিকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেয়ার পরিকল্পনা ছিল বলেও জানান তিনি।
শিশুটির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর স্বজন ও হাসপাতালের কর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা ও বাগ্বিতণ্ডা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, উত্তেজিত স্বজনেরা হাসপাতালের মূল্যবান ওষুধ ও চিকিৎসাসামগ্রী নষ্ট করেছেন এবং কয়েকজন নার্সকে মারধর করেছেন। তবে এসব অভিযোগের সমর্থনে কোনো সিসিটিভি ফুটেজ দেখাতে পারেনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। অন্যদিকে স্বজনেরা এসব অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন, হাসপাতালের কর্মীরাই প্রথমে তাদের ওপর চড়াও হন।
শিশুটির মৃত্যুর পর ময়নাতদন্ত নিয়েও জটিলতা তৈরি হয়। স্বজনেরা জানান, ময়নাতদন্তে শিশুটির শরীর কাটাছেঁড়া করা হবে-এটি তার মা মেনে নিতে পারেননি। পরে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ দাফনের জন্য নিয়ে যান তারা।
এদিকে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন পদ্মা জেনারেল হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা জহিরুল ইসলাম অনিক। তিনি বলেন, তদন্তের পর অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে শিশুটির জন্মগত ত্রুটি ও শারীরিক নানা জটিলতার বিষয়টি সামনে এসেছে। তবে চিকিৎসায় কোনো ধরনের অসংগতি ছিল কি না, তা তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে। তদন্তে কোনো অনিয়ম বা অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।



