সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধান শুরু
যুগের চিন্তা ২৪ অনলাইন
প্রকাশ: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:০৪ পিএম
বিদেশে বিপুল অর্থ পাচার, নিয়োগ বাণিজ্য, টেন্ডার সিন্ডিকেট এবং উন্নয়ন প্রকল্পে অস্বাভাবিক ব্যয় বাড়িয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতের নথি থেকে জানা যায়, দুদকের আবেদনের ভিত্তিতে এ অনুসন্ধান শুরু হয়েছে। দুদকের সহকারী পরিচালক (জনসংযোগ) তানজির আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
অভিযোগে বলা হয়েছে, আসিফ মাহমুদ দুর্নীতির অর্থ দিয়ে পর্তুগালে জমি ক্রয়, দুবাইয়ের গ্রীন গ্রুপে বিনিয়োগ এবং সুইস ব্যাংকে টাকা জমা করেছেন। তিনি দুবাইয়ে প্রায় ৪,৫০০ কোটি টাকা, সিঙ্গাপুরে ৩,০০০ কোটি টাকা, অস্ট্রেলিয়ায় ২,০০০ কোটি টাকা এবং সুইজারল্যান্ডে ১,৫০০ কোটি টাকা পাচার করেছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।
এছাড়া ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগে প্রায় ৬০ কোটি টাকা, বিভিন্ন ডিসি পদায়নে কোটি কোটি টাকা এবং ওয়াসা, এলজিইডি ও গাজীপুর সিটি করপোরেশনের গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগে বড় অঙ্কের ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতিতেও কোটি কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে বলে অভিযোগপত্রে দাবি করা হয়েছে।
দুদকের নথিতে আরও বলা হয়েছে, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পালনকালে তিনি উন্নয়ন প্রকল্পের টেন্ডার থেকে ১০–৩০ শতাংশ কমিশন গ্রহণ করেছেন। নারায়ণগঞ্জ ও কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের টেন্ডার বাণিজ্যেও তার সম্পৃক্ততা রয়েছে। গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন, সেতু নির্মাণ, সায়েদাবাদ পানি শোধনাগার প্রকল্প এবং শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম প্রকল্পে অস্বাভাবিক ব্যয় বৃদ্ধি করে হাজার হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগও উঠেছে।
অভিযোগে তার পরিবারের সদস্যদেরও অর্থ পাচারের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হলে আসিফ মাহমুদ প্রথমে শ্রম মন্ত্রণালয় এবং পরে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। একই বছরের নভেম্বরে তাকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।



