জন্মের পরই নাগরিকদের একক পরিচয়পত্র ‘এক-আইডি’ দেবে সরকার
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৪৯ পিএম
দেশের সব নাগরিককে জন্মের পরই একক পরিচয়পত্র দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ‘ইউনিফায়েড ডিজিটাল আইডেনটিটি’ বা ‘এক-আইডি’ নামের এই পরিচয়পত্র নাগরিকের সারা জীবনের জন্য স্থায়ী ও স্বতন্ত্র পরিচয় হিসেবে ব্যবহৃত হবে। স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সরকারি বিভিন্ন সেবা গ্রহণে এই পরিচয়পত্র ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে।
এ লক্ষ্যে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগ নতুন প্রকল্প হাতে নিয়েছে। ‘ডিজিটাল সার্ভিস ট্রান্সফরমেশন ফর অ্যাকসেস অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স’ বা ‘ডি-স্টার’ নামের প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল। ২০২৬ থেকে ২০৩১ সাল পর্যন্ত প্রকল্পটি বাস্তবায়নের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।
বর্তমানে জন্মের পর শিশুদের জন্মনিবন্ধন সনদ এবং ১৮ বছর বয়সে জাতীয় পরিচয়পত্র দেওয়া হয়। তবে নতুন ব্যবস্থায় জন্মের পরই নাগরিককে একক পরিচয়পত্র দেওয়া হবে। এতে সরকারি দপ্তরে একই তথ্য বারবার দেওয়ার প্রয়োজন হবে না।
তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে জাতীয় পরিচয়পত্র, ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের মতো বিভিন্ন সেবা একীভূত করে এক-আইডির মাধ্যমে দেওয়া হবে। যুক্তরাষ্ট্র, সিঙ্গাপুর, এস্তোনিয়া ও ভারতের অভিজ্ঞতা বিবেচনায় নিয়ে এই ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে।
প্রকল্পের প্রাথমিক প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রায় ১৮ কোটি নাগরিকের জন্য পরিচয়পত্র তৈরি করা হবে। প্রতিটি কার্ড উৎপাদন, মুদ্রণ ও বিতরণে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৩৬৯ টাকা। প্রকল্পের মোট ব্যয় হবে ৯ হাজার ১৯৩ কোটি টাকা, যার মধ্যে সরকার দেবে ৭ হাজার ৬৬৩ কোটি এবং বিশ্বব্যাংকের ঋণ থেকে আসবে ১ হাজার ৫৩০ কোটি টাকা।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, একক পরিচয়পত্র চালু হলে নাগরিকদের ভোগান্তি কমবে এবং সরকারি সেবা গ্রহণ আরও সহজ ও কার্যকর হবে।



