ব্যবহৃত যন্ত্রাংশ ঘোষণা দিয়ে বিলাসবহুল গাড়ি আমদানির চেষ্টা
যুগের চিন্তা ২৪ অনলাইন
প্রকাশ: ২৭ আগস্ট ২০২৬, ১১:২৯ এএম
‘ব্যবহৃত গাড়ির যন্ত্রাংশ’ ঘোষণা দিয়ে আসলে চারটি বিলাসবহুল গাড়ি আমদানির চেষ্টা করা হয়েছিল। গাড়িগুলোকে কয়েকটি বড় অংশে কেটে এনে যন্ত্রাংশ হিসেবে দেখানো হয়। মোংলা বন্দরে আসা একটি চালান পরীক্ষা করে এ কৌশল উদঘাটন করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (সিআইআইডি)।
কাস্টমস গোয়েন্দার তথ্য অনুযায়ী, চালানটিতে রেঞ্জ রোভার ভোগ, বিএমডব্লিউ ৬৫০আই, লেক্সাস এলএক্স৫৭০ ও টয়োটা ক্রাউন অ্যাথলেটের গুরুত্বপূর্ণ অংশ পাওয়া গেছে। এসব গাড়ির সম্ভাব্য বাজারমূল্য প্রায় ৪ কোটি ৫০ লাখ থেকে ৬ কোটি ৭০ লাখ টাকা। অথচ পুরো চালানটি ১৪ ধরনের ব্যবহৃত যন্ত্রাংশ হিসেবে ঘোষণা দিয়ে শুল্কায়নযোগ্য মূল্য দেখানো হয়েছিল মাত্র ৯ লাখ ৯৪ হাজার টাকা।
চালানটির বিল অব এন্ট্রি নম্বর সি-৬৯০৪, তারিখ ২০ এপ্রিল ২০২৬। জাপানের মাহি কার পোর্ট থেকে আসা ১৬৪ প্যাকেজের ওই চালানে দরজা, ইঞ্জিন, গিয়ার, হেডলাইটসহ বিভিন্ন যন্ত্রাংশ থাকার কথা উল্লেখ করা হয়। তবে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খালাস আটকে দিয়ে শতভাগ পরীক্ষা চালায় কাস্টমস।
বিআরটিএ ও কুয়েটের বিশেষজ্ঞদের সহায়তায় এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে শনাক্ত হয়, চালানে সাধারণ যন্ত্রাংশ নয় বরং গাড়ির সামনের-পেছনের কাঠামো, ছাদ ও বড় বড় অংশ রয়েছে। এগুলো জোড়া লাগালে গাড়ির মূল কাঠামো ফিরিয়ে আনা সম্ভব।
শনাক্ত গাড়িগুলোর মধ্যে রয়েছে— ২০১৭ সালের রেঞ্জ রোভার ভোগ (মূল্য প্রায় ১.৬–১.৮৫ কোটি টাকা), ২০১০ সালের বিএমডব্লিউ ৬৫০আই (মূল্য ৬০–৯০ লাখ টাকা), ২০১৬ সালের লেক্সাস এলএক্স৫৭০ (মূল্য ২–৩.৫ কোটি টাকা) এবং টয়োটা ক্রাউন অ্যাথলেট (মূল্য ৩০–৪৫ লাখ টাকা)।
কাস্টমসের তথ্যমতে, চালানের ইনভয়েস মূল্য দেখানো হয়েছিল মাত্র ৭ হাজার ৯৩৫ মার্কিন ডলার। ঘোষিত পণ্যের বিপরীতে শুল্ক-কর ধরা হয়েছিল প্রায় ৬ লাখ টাকা। অথচ প্রকৃত মূল্য কয়েক কোটি টাকা।
কাস্টমস কর্মকর্তারা বলছেন, গাড়িগুলোকে খণ্ডিত অবস্থায় আনা হলেও এতে সম্পূর্ণ গাড়ির বৈশিষ্ট্য বজায় থাকায় শুল্কায়নে ভিন্নভাবে বিবেচনা করতে হবে। শুল্ক ফাঁকির প্রকৃত পরিমাণ নির্ধারণে গাড়ির মূল্য, ইঞ্জিন ক্ষমতা ও বয়স বিবেচনা করা হবে।
সিআইআইডি জানিয়েছে, মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে শুল্ক ফাঁকি ও গাড়ি আমদানির চেষ্টা ঠেকাতে নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে।



