অব্যবহৃত জলাশয় তরুণদের মধ্যে বণ্টন করে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে: প্রধানমন্ত্রী
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ আগস্ট ২০২৬, ০৫:৪৩ পিএম
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দেশের অব্যবহৃত পুকুর, হাওর, বিল ও অন্যান্য জলাশয় সংস্কার করে মাছের পোনা অবমুক্ত করার পাশাপাশি এসব জলাশয় স্থানীয় তরুণদের মধ্যে বণ্টনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ উদ্যোগের মাধ্যমে তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং তারা স্বাবলম্বী হয়ে উঠবেন।
রোববার (১৬ আগস্ট) দুপুর ২টার দিকে কটিয়াদির আচমিতা জর্জ ইন্সটিটিউশন মাঠে আয়োজিত কিশোরগঞ্জে জাতীয় মৎস্য পক্ষ ২০২৬ এর উদ্বোধন ও পদক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, নদীমাতৃক বাংলাদেশে পুকুর, বিল, হাওর-বাওড়সহ অসংখ্য জলাশয় রয়েছে। অল্প জমি ব্যবহার করে এসব জলাশয়ে মাছ চাষের মাধ্যমে মানুষের স্বাবলম্বী হওয়ার বড় সুযোগ রয়েছে। দেশের যেসব পুকুর, হাওর, বিল ও অন্যান্য জলাশয় অব্যবহৃত পড়ে আছে, সেগুলো সংস্কার করে মাছের পোনা ছাড়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, যে এলাকার জলাশয় সংস্কার করা হবে, সেসব জলাশয় ওই এলাকার তরুণদের মধ্যে সুন্দরভাবে বণ্টন করা হবে। এর মাধ্যমে তরুণদের কর্মসংস্থানের পাশাপাশি মাছের উৎপাদনও বাড়বে। এ বিষয়ে মৎস্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকুকে ইতোমধ্যে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
মৎস্য খাতের সম্ভাবনা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, চিংড়িসহ বিভিন্ন মাছ ও মৎস্যজাত পণ্য বিদেশে রপ্তানি করে বাংলাদেশ বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বিশ্বের প্রায় ৫২টি দেশে মাছ ও মৎস্যজাত পণ্য রপ্তানি করে বাংলাদেশ ৬ হাজার কোটি টাকার বেশি সমমূল্যের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করেছে। এশিয়ার দেশগুলো ক্রমেই মিঠাপানির মাছ উৎপাদনের কেন্দ্রে পরিণত হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সম্ভাবনাও অত্যন্ত উজ্জ্বল।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, মৎস্য চাষ দেশের মানুষের পুষ্টির চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। মাছ চাষ, আহরণ, পরিবহন, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বিক্রয়কে ঘিরে বিপুল মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর আয় বাড়াতেও মৎস্য খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
মৎস্যখাতে অবদানের জন্য পুরস্কারপ্রাপ্তদের অভিনন্দন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ খাতের উদ্যোক্তা, ব্যবসায়ী, মৎস্যচাষি ও বিভিন্নভাবে সম্পৃক্ত সবাই দেশের এই অর্জনের দাবিদার। যারা আজ পুরস্কৃত হয়েছেন, তাদের পাশাপাশি মৎস্যখাতের সঙ্গে যুক্ত প্রত্যেককে তিনি আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।
অনুষ্ঠানে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি ও বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. মাজহারুল ইসলাম, কিশোরগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. জালাল উদ্দিনসহ মৎস্য বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা, মৎস্যচাষি, জেলে, উদ্যোক্তা ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে প্রধানমন্ত্রী জাতীয় মৎস্য পক্ষ ২০২৬-এর উদ্বোধন করেন। পরে মৎস্যখাতে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ১৩টি ক্যাটাগরিতে নির্বাচিত ১৪ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের হাতে জাতীয় মৎস্য পদক (স্বর্ণপদক) তুলে দেন।
পরে শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানে উন্নয়ন প্রকল্প উদ্বোধন ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। বিকেল ৪টায় পুরাতন স্টেডিয়ামে ফ্যামিলি কার্ড ও বিভিন্ন সহায়তা কর্মসূচিতে অংশ নেন তিনি। সন্ধ্যা ৬টায় তার কিশোরগঞ্জ ত্যাগ করে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়ার কথা রয়েছে।



