বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দুই দফায় ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বলে জানিয়েছে নয়াদিল্লি। এর মধ্যে একটি আমন্ত্রণ ফেব্রুয়ারিতে দ্বিপক্ষীয় সফরের জন্য এবং পরবর্তী সময়ে ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নিতে তাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এ তথ্য জানান।
সংবাদ সম্মেলনে এক সাংবাদিক জানতে চান, দিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নিতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানানোর পরিকল্পনায় কোনো জটিলতা তৈরি হয়েছে কি না। একই সঙ্গে ব্রিকস সম্মেলনের আগে তারেক রহমানকে দ্বিপক্ষীয় সফরে দিল্লি আমন্ত্রণ জানানোর পরিকল্পনা রয়েছে কি না, জানতে চাওয়া হয়।
জবাবে রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ‘এর আগে ফেব্রুয়ারিতে আমরা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলাম। এরপর ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নেওয়ার জন্যও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানিয়েছি।’
তিনি বলেন, ‘এই দুই আমন্ত্রণের বিষয়ে যখন আমার কাছে কোনো তথ্য থাকবে, তখন আমি আপনাদের জানাব।’
উল্লেখ্য, দায়িত্ব গ্রহণের প্রায় দেড় মাস পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে প্রথমবারের মতো বৈঠক করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। সোমবার (১০ আগস্ট) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডে গ্রেপ্তারদের প্রত্যর্পণের বিষয়টি উঠে এসেছে।
বৈঠকের পর এক ব্রিফিংয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান বলেন, ‘দণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে প্রত্যর্পণ করার বিষয়টি উঠে এসেছে। আমরা তাদের বলেছি, প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার জন্য। আমরা আশা করি, ভারত এ ব্যাপারে একটি ইতিবাচক দিকে এগোবে।’
এ প্রসঙ্গে এক সাংবাদিক জানতে চান, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক আরও গভীর করার বিষয়টি একটি অনুকূল পরিবেশ তৈরির ওপর নির্ভর করবে। এ বিষয়ে ভারতের মন্তব্য কী? বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে অনুকূল পরিবেশ নেই বলে ভারতও কি মনে করে?
জবাবে জয়সওয়াল বলেন, ‘আমি এরই মধ্যে বলেছি, আমাদের হাইকমিশনার গতকাল বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন এবং তারা পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন।’
ওই সাংবাদিক আরও জানতে চান, বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় হাদি হত্যাকাণ্ডের সব নথি ভারত সরকারের কাছে পাঠিয়েছে কি না এবং শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) বিচারসংক্রান্ত সব নথিও ভারতকে দেওয়া হয়েছে কি না।
তিনি বলেন, ‘আপনি যে অন্য দুটি বিষয় তুলেছেন—সাবেক প্রধানমন্ত্রীর প্রত্যর্পণ এবং হাদির মামলা; সেগুলোর বিষয়ে বলব, হাদির বিষয়টি একটি আইনি বিষয় এবং এ নিয়ে তদন্ত চলমান রয়েছে।’
শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ প্রসঙ্গে ভারতের অবস্থান জানতে চাইলে জয়সওয়াল বলেন, ‘প্রত্যর্পণের বিষয়টি নিয়ে আমি আগেও বলেছি, এ বিষয়ে আমাদের অবস্থান খুবই স্পষ্ট। আমাদের দেশে যে নির্ধারিত প্রক্রিয়া রয়েছে, সেই অনুযায়ী আমরা বিষয়টি পর্যালোচনা করছি।’



