বয়সের ভারে নুয়ে পড়েছে রেলের ইঞ্জিন, অচল এক-তৃতীয়াংশ
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৯ আগস্ট ২০২৬, ০৯:২৭ এএম
রেলের এক তৃতীয়াংশ ইঞ্জিনই অচল। ছবি: ভিডিও থেকে সংগৃহীত
বয়সের ভারে নুয়ে পড়েছে ট্রেনের মূল চালিকাশক্তি—লোকোমোটিভ বা ইঞ্জিন। বাংলাদেশ রেলওয়ের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ইঞ্জিনই অচল। সচল যেগুলো, সেগুলোর অনেকগুলোই চলছে জোড়াতালি দিয়ে। এতে ব্যাহত হচ্ছে ট্রেনের সময়সূচি। যাত্রী ও পণ্য পরিবহনে বাড়ছে দুর্ভোগ। আর বারবার বিব্রত হতে হচ্ছে রেল কর্তৃপক্ষকে।
রেলওয়ের তথ্য বলছে, পূর্ব ও পশ্চিম—দুই অঞ্চলে সব মিলিয়ে প্রায় ২৭০টি লোকোমোটিভ রয়েছে। এর মধ্যে মিটারগেজ ইঞ্জিন প্রায় ১৫০টি এবং ব্রডগেজ প্রায় ১২০টি। এসব ইঞ্জিনের মধ্যে ৮০টির বেশি বর্তমানে অকেজো। ফলে পুরোনো ও মেরামত করে সচল রাখা ইঞ্জিন দিয়েই চলছে রেলওয়ের যাত্রী ও পণ্য পরিবহন।
২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ১৫ বছরে রেল খাতে এক লাখ কোটি টাকার বেশি ব্যয় হলেও নতুন লোকোমোটিভ সংগ্রহে তেমন গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। একের পর এক নতুন রেললাইন নির্মাণ হলেও প্রয়োজনীয় ইঞ্জিন না থাকায় সেসব রুটে কাঙ্ক্ষিত গতিতে ট্রেন পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না।
দীর্ঘদিনের এই সংকট কাটাতে নতুন ৬০টি মিটারগেজ লোকোমোটিভ সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকার ও এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকের (এআইআইবি) যৌথ অর্থায়নে প্রায় ২ হাজার ৭০০ কোটি টাকা ব্যয়ে ৩০টি মিটারগেজ ইঞ্জিন কেনার চূড়ান্ত প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।
পাশাপাশি এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) ঋণে চট্টগ্রাম-দোহাজারী রেলপথ রূপান্তর প্রকল্পের আওতায় আরও ৩০টি মিটারগেজ ইঞ্জিন সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ প্রকল্পের টেন্ডার অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।
বাংলাদেশ রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (রোলিং স্টক) ফকির মো. মহিউদ্দীন বলেন, এডিবি থেকে টেন্ডার ডকুমেন্টের সম্মতি পাওয়ার পর প্রকল্প পরিচালক দরপত্র আহ্বান করবেন। চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার পর নতুন ইঞ্জিন তৈরি ও সরবরাহে প্রায় দুই বছর সময় লাগবে।
তবে লোকোমোটিভ সংকটের সবচেয়ে বড় ধাক্কা পড়ছে পণ্য পরিবহনে। শুধু পূর্বাঞ্চলেই প্রতিদিন ১৩টি পণ্যবাহী ইঞ্জিনের চাহিদার বিপরীতে পাওয়া যাচ্ছে মাত্র তিন থেকে চারটি। ফলে সময়মতো পণ্য পরিবহন করা যাচ্ছে না, পাশাপাশি রেলের আয়ও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
বুয়েটের মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. এম. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, রেলওয়ের ইঞ্জিনের সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন। এতে প্রকিউরমেন্টের সময়ও সুফল পাওয়া যাবে। তা না হলে সরবরাহকারীদের মাধ্যমে বিভিন্ন অনিয়মের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
জীর্ণ ও পুরোনো ইঞ্জিনের ওপর নির্ভর করেই প্রতি বছর প্রায় ১০ কোটি যাত্রী এবং ৪০ লাখ টন পণ্য পরিবহন করছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। নতুন ইঞ্জিন সংগ্রহের উদ্যোগ বাস্তবায়িত না হলে আগামী দিনেও রেলের পরিবহন সক্ষমতা নিয়ে সংকট কাটার সম্ভাবনা কম বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।



