বাংলাদেশ–দক্ষিণ কোরিয়া সিইপিএ চুক্তি: ৯৭% পণ্য পাবে শুল্ক সুবিধা
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০৪ আগস্ট ২০২৬, ০৯:১৭ পিএম
বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে স্বাক্ষরিত কমপ্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ অ্যাগ্রিমেন্ট (সিইপিএ) অনুযায়ী দক্ষিণ কোরিয়ার বাজারে রপ্তানি হওয়া বাংলাদেশের ৯৭ শতাংশ পণ্য অগ্রাধিকারমূলক শুল্ক সুবিধা পাবে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ দক্ষিণ কোরিয়ার ৮৭ শতাংশ পণ্যের জন্য অগ্রাধিকারমূলক বাজারসুবিধা দেবে।
মঙ্গলবার সচিবালয়ে চুক্তি স্বাক্ষরের পর যৌথ সংবাদ সম্মেলনে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির জানান, সিইপিএ বাংলাদেশের জন্য একটি ঐতিহাসিক অর্জন। এটি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, রপ্তানি বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে আরও গতিশীল করবে।
তিনি বলেন, তৈরি পোশাক, চামড়াজাত ও পাটজাত পণ্যসহ প্রধান রপ্তানি খাতগুলো দক্ষিণ কোরিয়ার বাজারে আরও সহজে প্রবেশের সুযোগ পাবে। পাশাপাশি রপ্তানি বহুমুখীকরণ ও বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে চুক্তিটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, এলডিসি তালিকা থেকে উত্তরণের পর বাণিজ্যিক সক্ষমতা ধরে রাখা এবং বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে সিইপিএ কার্যকর ভূমিকা রাখবে। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ ২০৩৪ সালের মধ্যে ১ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত হওয়ার লক্ষ্য নিয়েছে। এ লক্ষ্যে উন্নত প্রযুক্তি ও মানসম্পন্ন বিদেশি বিনিয়োগ অপরিহার্য।
দক্ষিণ কোরিয়ার বাণিজ্যমন্ত্রী ইও হান-কু বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির প্রশংসা করে বলেন, এতদিন দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক মূলত তৈরি পোশাক খাতকে কেন্দ্র করে ছিল। এখন তা শিল্প সহযোগিতা, প্রযুক্তি ও বিনিয়োগসহ আরও বিস্তৃত ক্ষেত্রে সম্প্রসারিত হবে। তিনি বাংলাদেশের তরুণ জনগোষ্ঠীকে দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, কোরিয়ার প্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশে উৎপাদন করে বৈশ্বিক বাজারে রপ্তানির সুযোগ পাবে।
উভয় দেশই আশা প্রকাশ করেছে, সিইপিএ চুক্তির মাধ্যমে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে।



