বেনজীরের দুবাইয়ে মুক্তি বিষয়ে দুদকের কাছে আনুষ্ঠানিক তথ্য নেই
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০২ আগস্ট ২০২৬, ০৬:৩২ পিএম
পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদের দুবাইয়ে মুক্তি পাওয়ার বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কাছে কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য নেই বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির মহাপরিচালক মীর মো. জয়নুল আবেদীন শিবলী। তিনি দাবি করেছেন, এ সংক্রান্ত কাজে দুদকের কোনো গাফিলতি ছিল না।
রোববার (২ আগস্ট) বিকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, “বেনজীরের মুক্তির বিষয়টি আমরা পত্রপত্রিকার মাধ্যমে জেনেছি। তবে আইনগতভাবে যা যা করার প্রয়োজন, দুদক তা করবে।” তিনি আরও জানান, আন্তঃদেশীয় অনুসন্ধানের ক্ষেত্রে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষ হিসেবে কাজ করে। দুদক থেকে প্রয়োজনীয় সব নথি পাঠানো হয়েছে।
কোন কারণে বেনজীরকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে— এ বিষয়ে দুদক কোনো তথ্য জানে না বলে জানান শিবলী। তিনি বলেন, পারস্পরিক আইনি সহায়তার অনুরোধ (এমএলএ) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়, সেখান থেকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট দেশে পাঠানো হয়।
অন্যদিকে পুলিশ সদর দপ্তরের দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, দুবাই কর্তৃপক্ষ বা ইন্টারপোলের কাছ থেকে বেনজীরের মুক্তি বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য পাওয়া যায়নি। দুবাই পুলিশের পক্ষ থেকেও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।
বেনজীর আহমেদ ২০২০ সালের ১৫ এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আইজিপি ছিলেন। এর আগে তিনি ডিএমপি কমিশনার ও র্যাবের মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে ২০২১ সালের ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্র তার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়।
২০২৪ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার কয়েক মাস আগে তার বিপুল সম্পদের তথ্য প্রকাশিত হয়। এরপর দুদক অনুসন্ধান শুরু করে এবং তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়। আদালত গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে। ২০২৫ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি ইন্টারপোলের মাধ্যমে গ্রেফতারি পরোয়ানা কার্যকর করার আদেশ দেন আদালত।
দুদক ২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর বেনজীর, তার স্ত্রী জীশান মীর্জা ও দুই মেয়ের বিরুদ্ধে চারটি মামলা করে। মামলাগুলোতে বেনজীরের বিরুদ্ধে ৯ কোটি ৪৪ লাখ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন এবং ২ কোটি ৬২ লাখ টাকার সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগ আনা হয়। তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে ৩১ কোটি ৬৯ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং ১৬ কোটি টাকার তথ্য গোপনের অভিযোগ রয়েছে।



