নতুন রাষ্ট্রপতি নিয়ে জোর আলোচনায় বিএনপির সিনিয়র ৩ নেতা
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৪ জুলাই ২০২৬, ০৩:৫৯ পিএম
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সম্ভাব্য পদত্যাগের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কে হচ্ছেন—তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র আলোচনা শুরু হয়েছে। দায়িত্বশীল সূত্রগুলোর দাবি, শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে তিনি দু-এক দিনের মধ্যেই পদত্যাগ করতে পারেন।
এমন পরিস্থিতিতে বিএনপির সিনিয়র তিন নেতার নাম আলোচনায় এসেছে। রাজনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন এবং ড. আবদুল মঈন খান সম্ভাব্য রাষ্ট্রপতি হিসেবে আলোচিত হচ্ছেন। এছাড়া সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদে চুক্তিভিত্তিক দায়িত্ব পালন করা এক সিনিয়র সচিবের নামও আলোচনায় রয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত হয়নি।
সূত্র জানায়, পরবর্তী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নতুন রাষ্ট্রপতির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনা করা হচ্ছে। তাই রাষ্ট্রপতির শূন্য পদে কাকে দায়িত্ব দেওয়া হবে, তা নিয়ে সরকার ও বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে আলোচনা চলছে। ধারণা করা হচ্ছে, নতুন রাষ্ট্রপতি নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠেয় সংসদ অধিবেশনেই নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সম্ভাবনা রয়েছে।
দলীয় সূত্রগুলোর মতে, রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির কোনো নেতাকে মনোনয়ন দেওয়ার সম্ভাবনা প্রায় ৪০ শতাংশ। অন্যদিকে, প্রায় ৬০ শতাংশ সম্ভাবনা রয়েছে দলের বাইরের গ্রহণযোগ্য কাউকে এ পদে মনোনয়ন দেওয়ার। তবে দলের একাধিক নেতা মনে করছেন, রাষ্ট্রপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদে অভিজ্ঞ রাজনৈতিক নেতৃত্বকেই দায়িত্ব দেওয়া উচিত।
সরকারের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, রাষ্ট্রপতি পদে যেসব নাম আলোচনায় আসছে, সেগুলো অনুমাননির্ভর। বাস্তবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ছাড়া এ বিষয়ে নিশ্চিতভাবে কেউ কিছু জানেন না।
বিএনপির নীতিনির্ধারকরা বলছেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে সম্ভাব্য রাজনৈতিক চাপ মোকাবিলা, সাংবিধানিক ভারসাম্য রক্ষা এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সমন্বয় রেখে দায়িত্ব পালনের সক্ষমতা—এসব বিষয় বিবেচনায় রেখেই নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করা হবে।
উল্লেখ্য, মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের এপ্রিলে দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন। তিনি বিভিন্ন সময়ে দায়িত্ব ছাড়ার ইচ্ছার কথা প্রকাশ্যে উল্লেখ করেছিলেন। সর্বশেষ এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, সরকার চাইলে দায়িত্বে থাকবেন, অন্যথায় স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করবেন।



