রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন খুব শিগগিরই পদত্যাগ করছেন বলে সরকারের একটি দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সূত্রটি জানায়, সরকার ও ক্ষমতাসীন বিএনপি নতুন রাষ্ট্রপতি মনোনয়নের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। মনোনয়ন বিলম্ব হলে জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।
রাষ্ট্রপতি অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। যদিও বঙ্গভবন বা সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা পাওয়া যায়নি। তবে বঙ্গভবনকেন্দ্রিক একটি সূত্র জানিয়েছে, রাষ্ট্রপতি নিজে অধস্তন কর্মীদের শিগগিরই বঙ্গভবন ছাড়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন। পদত্যাগের পর তিনি কিছুদিন বিশ্রামে থাকবেন এবং চিকিৎসার জন্য বিদেশ যেতে পারেন।
উল্লেখ্য, মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন। আওয়ামী লীগের মনোনয়নে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে তিনি দায়িত্ব পালন শুরু করেন। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের সময়ে তিনি গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করেন।
গণঅভ্যুত্থানের পর থেকেই ছাত্রনেতারা তার অপসারণ দাবি করে আসছিলেন। তবে অন্তর্বর্তী সরকার তাকে অপসারণে উদ্যোগ নেয়নি। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে সাহাবুদ্দিন নিজেই বলেছিলেন, মেয়াদের মাঝামাঝি সময়ে তিনি পদত্যাগ করতে চান। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, সরকার চাইলে তিনি দায়িত্বে থাকবেন, অন্যথায় স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করবেন।
সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। ৯০ দিনের মধ্যে সংসদ সদস্যদের ভোটে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করতে হবে। বিএনপি সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠ হওয়ায় দলটির মনোনীত প্রার্থীই নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করলে গণঅভ্যুত্থান ও জাতীয় নির্বাচনের পর দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে আরও একটি বড় পরিবর্তন ঘটবে। একই সঙ্গে সরকার গঠনের পর প্রথমবারের মতো নিজেদের মনোনীত একজনকে রাষ্ট্রপতি করার সুযোগ পাবে বিএনপি।



