Logo
Logo
×

জাতীয়

দলীয় বহিষ্কারেই গাজী নজরুলের এমপি পদ নিয়ে সিদ্ধান্ত নয়: ইসি মাছউদ

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৩ জুলাই ২০২৬, ১১:৫০ এএম

দলীয় বহিষ্কারেই গাজী নজরুলের এমপি পদ নিয়ে সিদ্ধান্ত নয়: ইসি মাছউদ

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘ব্যক্তিগত মুহূর্তের’ ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় আলোচনায় আসা সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। তবে শুধু দল থেকে বহিষ্কারের কারণে তার সংসদ সদস্য পদ বাতিল হবে না বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) চ্যানেল 24-কে তিনি বলেন, কোনো সংসদ সদস্যকে কেবল তার নিজ দল বহিষ্কার করলেই আইন অনুযায়ী সরাসরি তার সংসদ সদস্য পদ শূন্য হয় না। বিষয়টিতে আইনগত প্রক্রিয়া রয়েছে।

তিনি বলেন, এ বিষয়ে যদি জাতীয় সংসদের স্পিকার বা সংসদ কোনো সিদ্ধান্ত বা নির্দেশনার জন্য নির্বাচন কমিশনের কাছে বিষয়টি পাঠান, তাহলে কমিশন উভয় পক্ষের শুনানি গ্রহণ করবে। এরপর সংবিধান ও সংশ্লিষ্ট আইন অনুযায়ী বিষয়টি নিষ্পত্তি করা হবে।

সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো সংসদ সদস্য স্বেচ্ছায় দলত্যাগ করলে বা সংসদে নিজ দলের বিপক্ষে ভোট দিলে তার আসন শূন্য হওয়ার বিধান রয়েছে। তবে দল থেকে বহিষ্কারের ক্ষেত্রে সংসদ সদস্য পদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হবে—এমন কোনো স্পষ্ট বিধান সেখানে নেই।

অন্যদিকে সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদ এবং সংসদ সদস্য বিরোধ নির্ধারণ আইন অনুযায়ী, কোনো সদস্যের যোগ্যতা বা আসন শূন্য হওয়া নিয়ে বিরোধ দেখা দিলে স্পিকার বিষয়টি নির্বাচন কমিশনে পাঠাবেন। আইন অনুযায়ী বিরোধ উত্থাপনের ৩০ দিনের মধ্যে বিষয়টি ইসিতে পাঠানোর কথা। এরপর নির্বাচন কমিশন দেওয়ানি আদালতের এখতিয়ার প্রয়োগ করে শুনানি গ্রহণ করবে এবং সর্বোচ্চ ১২০ দিনের মধ্যে সিদ্ধান্ত স্পিকারকে জানাবে। কমিশনের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে আইনে উল্লেখ রয়েছে।

এর আগে জামায়াতের মনোনয়নে নির্বাচিত সাতক্ষীরা-৪ আসনের এমপি গাজী নজরুল ইসলামের একটি ‘ব্যক্তিগত মুহূর্তের’ ভিডিও সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে সমালোচনার সৃষ্টি হলে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী একটি অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটি গঠন করে।

দলীয় তদন্তে ঘটনাটি ‘নৈতিক স্খলন’ হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে উল্লেখ করে ২১ জুলাই কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের জরুরি সভায় দলের গঠনতন্ত্রের ৬২ ধারা অনুযায়ী তাকে চূড়ান্তভাবে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ২২ জুলাই দলটি আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সেই সিদ্ধান্ত জানায়। একই সঙ্গে বহিষ্কারের বিষয়টি নির্বাচন কমিশনকেও অবহিত করার কথা জানায় জামায়াত।

এ ধরনের ঘটনায় অতীতেও নজির রয়েছে। দশম জাতীয় সংসদের সদস্য লতিফ সিদ্দিকী হজ নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের পর আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কৃত হলেও নির্বাচন কমিশনের শুনানির আগেই তিনি সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করেন। ফলে তার আসন শূন্য হয়।

অন্যদিকে নারীদের নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্যের ঘটনায় মুরাদ হাসান জেলা আওয়ামী লীগের পদ হারালেও দলের প্রাথমিক সদস্যপদ বহাল থাকায় তার সংসদ সদস্য পদে কোনো প্রভাব পড়েনি। এই নজিরগুলোও দেখাচ্ছে, দলীয় সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত এবং সংসদ সদস্য পদের সাংবিধানিক অবস্থান এক বিষয় নয়; এমপি পদ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করে সংবিধান ও আইনে নির্ধারিত প্রক্রিয়ার ওপর।

Swapno

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher

Major(Rtd)Humayan Kabir Ripon

Managing Editor

Email: [email protected]

অনুসরণ করুন