শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় অভিমুখে শিক্ষার্থীদের লংমার্চ
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ জুলাই ২০২৬, ০৪:২৪ পিএম
এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা-সংক্রান্ত বিভিন্ন দাবিতে ঘোষিত ‘লং মার্চ টু শিক্ষা মন্ত্রণালয়’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে রাজধানীর সায়েন্সল্যাব ও নীলক্ষেত এলাকা থেকে সচিবালয়ের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেছে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।
বুধবার (১৫ জুলাই) বিকাল ৩টার পর শিক্ষার্থীরা সায়েন্সল্যাব ও নীলক্ষেত এলাকায় একত্রিত হয়ে মিছিলসহ সচিবালয়ের দিকে অগ্রসর হয়। মিছিলটি নীলক্ষেত মোড় হয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্য ও টিএসসি অতিক্রম করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দিকে যায়। এ সময় তারা বিভিন্ন দাবির পক্ষে স্লোগান দেয়।
মিছিলে বিভিন্ন কলেজ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়। তাদের হাতে ছিল প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার। লংমার্চকে কেন্দ্র করে নীলক্ষেত, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা, টিএসসি ও দোয়েল চত্বর এলাকায় যান চলাচলে ধীরগতি দেখা দেয়। সচিবালয় এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে; প্রবেশপথে ব্যারিকেড বসিয়ে পুলিশ, বিজিবি ও অন্যান্য বাহিনী সতর্ক অবস্থান নেয়।
এর আগে দুপুরে নীলক্ষেত ও সায়েন্সল্যাব এলাকায় বিজিবি ও পুলিশ মোতায়েন করা হলেও শিক্ষার্থীরা অবস্থান না নেওয়ায় তারা সরে যায়। পরে দুপুর আড়াইটার দিকে শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ করে এবং বিকাল ৩টার পর অবরোধ তুলে লংমার্চ শুরু করে।
এদিকে বুধবার দেশের ৫৯ জেলায় এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষা শেষে ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়। উত্তরার বিএনএস সেন্টার, শাহবাগ, সায়েন্সল্যাব, মগবাজার ও নীলক্ষেতকে সমাবেশস্থল হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছিল।
উল্লেখ্য, ১৩ জুলাই প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও চট্টগ্রামের পাঁচ জেলা ছাড়া সারা দেশে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। জলাবদ্ধতার মধ্যে পরীক্ষার্থীদের কেন্দ্রে যেতে হয়। একই সময়ে শিক্ষামন্ত্রীর একটি ফোনালাপের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে পরীক্ষার্থীদের ‘ফার্মের মুরগি’ বলে সম্বোধন করার অভিযোগ ওঠে। পাশাপাশি পদার্থবিজ্ঞান প্রথমপত্রের প্রশ্নপত্রে ভুল নিয়েও বিতর্ক সৃষ্টি হয়।
এসব ঘটনার পর শিক্ষার্থীরা প্রথমে ৮ দফা এবং পরে ৩ দফা দাবি উত্থাপন করে। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে—
এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত: উপযোগী পরিবেশ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত পরীক্ষা স্থগিত রাখা।
পূর্ণ নম্বর প্রদান: পদার্থবিজ্ঞান প্রথমপত্রের ভুল প্রশ্নের জন্য পূর্ণ নম্বর দেওয়া।
শিক্ষামন্ত্রীর ক্ষমা প্রার্থনা: প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়া।
শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ: অবিলম্বে পদত্যাগ।
যদিও মঙ্গলবার রাতে জাতীয় সংসদে শিক্ষামন্ত্রী দুঃখ প্রকাশ ও কিছু সমাধানের ঘোষণা দেন, শিক্ষার্থীরা তাদের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।



