Logo
Logo
×

জাতীয়

বন্যায় প্লাবিত ৫৯ উপজেলা, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫১

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১২ জুলাই ২০২৬, ০৯:৪৪ পিএম

বন্যায় প্লাবিত ৫৯ উপজেলা, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫১

দেশের সাত জেলায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। অতিবৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল ও পাহাড়ধসে সৃষ্ট দুর্যোগে এখন পর্যন্ত ৫৯টি উপজেলা প্লাবিত হয়েছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৩৬৮টি ইউনিয়ন ও ১২টি পৌরসভা। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫১ জনে। এছাড়া আহত হয়েছেন ৩৯ জন।

রোববার (১২ জুলাই) দুপুর ২টায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বর্তমানে খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, বান্দরবান, কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার বিভিন্ন এলাকা বন্যাকবলিত। এসব জেলার ৫৯টি উপজেলায় বন্যার পানি প্রবেশ করেছে।

বন্যায় সবচেয়ে বেশি প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে কক্সবাজার জেলায়। সেখানে মারা গেছেন ২৮ জন। এছাড়া চট্টগ্রামে ১৩ জন, বান্দরবানে ৬ জন, রাঙামাটিতে ৩ জন এবং মৌলভীবাজারে একজনের মৃত্যু হয়েছে। আহতদের মধ্যে কক্সবাজারে ২৪ জন, চট্টগ্রামে ১২ জন, বান্দরবানে ২ জন এবং খাগড়াছড়িতে একজন রয়েছেন।

বন্যাকবলিত মানুষের আশ্রয়ের জন্য সাত জেলায় মোট ১ হাজার ৪৯টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এসব আশ্রয়কেন্দ্রে বর্তমানে ৩৮ হাজার ৪২২ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন।

মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বন্যায় চট্টগ্রাম সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জেলার ১৬টি উপজেলায় আংশিক জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। সেখানে ৫৮০টি আশ্রয়কেন্দ্রে ২১ হাজার ৯০০ মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। এ জেলায় বন্যায় ১৩ জন নিহত ও ১২ জন আহত হয়েছেন।

কক্সবাজারে ১০টি উপজেলার ৭০টি ইউনিয়ন ও চারটি পৌরসভা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেখানে ২৭টি আশ্রয়কেন্দ্রে ১ হাজার ৫৮০ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। বন্যায় নিহতদের মধ্যে স্থানীয় ১৫ জন ও রোহিঙ্গা ১৩ জন রয়েছেন। এছাড়া আহত হয়েছেন ২৪ জন এবং একজন নিখোঁজ রয়েছেন।

বান্দরবানে সাতটি উপজেলার ৩৪টি ইউনিয়ন ও দুটি পৌরসভা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেখানে ২২০টি আশ্রয়কেন্দ্রে ৬ হাজার ২৫০ জন মানুষ অবস্থান করছেন। এ জেলায় ছয়জন নিহত ও দুইজন আহত হয়েছেন।

রাঙামাটিতে ৯টি উপজেলা বন্যাকবলিত হয়েছে। জেলার ৫০টি আশ্রয়কেন্দ্রে ৩ হাজার ৬৩৭ জন আশ্রয় নিয়েছেন। সেখানে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে।

খাগড়াছড়ির ৯টি উপজেলা বন্যার কবলে পড়েছে। সেখানে ১৫০টি আশ্রয়কেন্দ্রে ২ হাজার ৮৮৩ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। এ জেলায় একজন আহত হয়েছেন।

মৌলভীবাজারে পাঁচটি উপজেলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেখানে ২০টি আশ্রয়কেন্দ্রে ২ হাজার ১৭২ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। এ জেলায় একজনের মৃত্যু হয়েছে। হবিগঞ্জের তিনটি উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

এদিকে বন্যার্তদের সহায়তায় ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে সরকার। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ৭ জুলাই থেকে ১২ জুলাই পর্যন্ত বন্যাকবলিত জেলাগুলোতে নগদ অর্থ ও চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। সাত জেলার জন্য মোট ১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা এবং ৩ হাজার ২৫০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

এর মধ্যে চট্টগ্রামে ৬৫ লাখ টাকা ও ১ হাজার ২০০ মেট্রিক টন চাল, কক্সবাজারে ৩০ লাখ টাকা ও ৪৫০ মেট্রিক টন চাল, রাঙামাটিতে ২৫ লাখ টাকা ও ৫০০ মেট্রিক টন চাল, বান্দরবানে ২০ লাখ টাকা ও ৪০০ মেট্রিক টন চাল, মৌলভীবাজারে ১০ লাখ টাকা ও ২০০ মেট্রিক টন চালসহ অন্যান্য জেলায় ত্রাণ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পরিস্থিতি মোকাবিলায় মাঠপর্যায়ে ত্রাণ কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। বন্যা পরিস্থিতি ও ক্ষয়ক্ষতির তথ্য নিয়মিতভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

Swapno

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher

Major(Rtd)Humayan Kabir Ripon

Managing Editor

Email: [email protected]

অনুসরণ করুন