ইতিহাস শুধু অতীত নয়, ভবিষ্যৎ নির্মাণেরও পথনির্দেশক: ডেপুটি স্পিকার
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০২৬, ০৮:৩৪ পিএম
বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেছেন, ইতিহাস শুধু অতীতের ঘটনা জানার বিষয় নয়, এটি একটি জাতির আত্মপরিচয়ের আয়না এবং ভবিষ্যৎ নির্মাণের পথনির্দেশক। ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়েই একটি জাতি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে এগিয়ে যেতে পারে।
বুধবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) মিলনায়তনে ইতিহাস বিভাগের ২০তম সেমিস্টার ব্যাচের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের ১৯৮৯–৯০ শিক্ষাবর্ষের সাবেক শিক্ষার্থী হিসেবে ছাত্রজীবনের স্মৃতিচারণ করে ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, এই বিভাগ তাঁকে শুধু পাঠ্যবইয়ের জ্ঞান দেয়নি, বরং মানুষ, সমাজ ও রাষ্ট্রকে বোঝার দৃষ্টিভঙ্গি, নেতৃত্বের গুণাবলি এবং দেশ ও জাতির প্রতি দায়িত্ববোধ গড়ে তুলতে সহায়তা করেছে। তিনি বলেন, আজ তিনি যে অবস্থানে রয়েছেন, তার পেছনে ইতিহাস বিভাগের অবদান গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।
নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে ডেপুটি স্পিকার বলেন, ইতিহাস অধ্যয়ন যুক্তিনির্ভর চিন্তা, বিশ্লেষণী দক্ষতা, গবেষণামনস্কতা এবং সত্য অনুসন্ধানের মানসিকতা গড়ে তোলে। এসব গুণ শুধু একজন ইতিহাসবিদ হওয়ার জন্য নয়; রাষ্ট্র পরিচালনা, প্রশাসন, বিচারব্যবস্থা, কূটনীতি, সাংবাদিকতা, শিক্ষা, গবেষণা ও করপোরেট নেতৃত্বসহ জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে সমানভাবে প্রয়োজন।
তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় জীবনকে শুধু ডিগ্রি অর্জনের সময় হিসেবে নয়, বরং একজন যোগ্য, মানবিক ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে নিজেকে গড়ে তোলার সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করতে হবে। নিয়মিত ক্লাসে অংশগ্রহণ, সময়ানুবর্তিতা, শৃঙ্খলা, সততা, অধ্যবসায় এবং মুক্তচিন্তার চর্চার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক ভূমিকার কথা তুলে ধরে ডেপুটি স্পিকার বলেন, ভাষা আন্দোলন, মহান মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থানসহ দেশের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ গণতান্ত্রিক আন্দোলনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পথপ্রদর্শকের ভূমিকা পালন করেছে। দেশ যখনই কোনো সংকটের মুখোমুখি হয়েছে, তখনই এই বিশ্ববিদ্যালয় জাতিকে দিকনির্দেশনা দিয়েছে।
তিনি বলেন, ‘আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, Dhaka University is the light at the end of the tunnel। অর্থাৎ, কঠিন সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় জাতির আশা, প্রেরণা ও সম্ভাবনার প্রতীক।’
অনুষ্ঠানের শেষে তিনি আশা প্রকাশ করেন, ইতিহাস বিভাগের নবীন শিক্ষার্থীরা নিজেদের মেধা, সততা ও কর্মদক্ষতার মাধ্যমে বিভাগের গৌরবময় ঐতিহ্য অক্ষুণ্ন রাখবেন এবং দেশ-বিদেশে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল করবেন।
নবীনবরণ অনুষ্ঠানে ইতিহাস বিভাগের শিক্ষকবৃন্দ, নবীন ও প্রবীণ শিক্ষার্থী, আমন্ত্রিত অতিথি, জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।



