ডেপুটি স্পিকারের সঙ্গে জাতীয় কন্যাশিশু অ্যাডভোকেসি ফোরামের সৌজন্য সাক্ষাৎ
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০২৬, ০২:৩৪ পিএম
জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, এমপির সঙ্গে জাতীয় কন্যাশিশু অ্যাডভোকেসি ফোরামের আট সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছে।
গতকাল সোমবার (৬ জুলাই) জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন ড. বদিউল আলম মজুমদার।
সাক্ষাৎকালে প্রতিনিধিদল নারী ও কন্যাশিশুর অধিকার প্রতিষ্ঠায় গণসচেতনতা বৃদ্ধি, ৩০ সেপ্টেম্বরকে ‘জাতীয় কন্যাশিশু দিবস’ হিসেবে ঘোষণা ও দেশব্যাপী উদযাপন, নারী উন্নয়ন নীতি ও জাতীয় শিশুনীতি-২০১১-এ কন্যাশিশুবিষয়ক পৃথক ধারা সংযোজন, বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন ও বিধিমালার প্রয়োজনীয় সংশোধন, পার্লামেন্টারি শিশু অধিকার ককাস গঠন এবং নারী ও কন্যাশিশুর নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরেন।
ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল প্রতিনিধিদলের বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং নারী ও কন্যাশিশুর নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষায় সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, পরিবার ও সমাজে ছেলে-মেয়ের মধ্যে বৈষম্যের কোনো সুযোগ নেই। কন্যাশিশুর নিরাপত্তা, শিক্ষা ও মর্যাদা নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও সমাজের সবার দায়িত্ব। ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধের আলোকে নারী ও কন্যাশিশুর প্রতি সম্মানজনক আচরণ নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, দেশের নারী সমাজ পরিবার ও সমাজে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখলেও এখনও নানা বৈষম্য ও অপুষ্টির শিকার হন। এ পরিস্থিতি পরিবর্তনে সরকার, জনপ্রতিনিধি, নাগরিক সমাজ এবং সামাজিক সংগঠনগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
পার্লামেন্টারি শিশু অধিকার ককাস গঠনের বিষয়ে ডেপুটি স্পিকার বলেন, দক্ষ ও অভিজ্ঞ সদস্যদের সমন্বয়ে কার্যকর ককাস গঠন করা হলে শিশুদের কল্যাণে প্রয়োজনীয় আইন ও নীতিগত সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া সহজ হবে। তিনি বলেন, আজকের শিশুরাই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। তাই তাদের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
বৈঠকে নারী ও কন্যাশিশুর অধিকার সুরক্ষা, নিরাপদ ও বৈষম্যহীন পরিবেশ নিশ্চিতকরণ এবং কন্যাশিশুবান্ধব নীতি প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। এ সময় সংসদ, সরকার ও নাগরিক সমাজের সমন্বিত উদ্যোগে নারী ও কন্যাশিশুর ক্ষমতায়ন ও অধিকার প্রতিষ্ঠায় কার্যকর ভূমিকা রাখার বিষয়ে মতবিনিময় হয়।
প্রতিনিধিদলের সদস্যরা তাদের বক্তব্য মনোযোগসহকারে শোনার জন্য ডেপুটি স্পিকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং নারী ও কন্যাশিশুর অধিকার প্রতিষ্ঠায় তাঁর অব্যাহত সহযোগিতা কামনা করেন। উভয় পক্ষ ভবিষ্যতেও এ বিষয়ে পারস্পরিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।



