দেশের উত্তর, উত্তর-পূর্ব ও উত্তরাঞ্চলের নদ-নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় কয়েকটি জেলায় বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে কুশিয়ারা নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে।
রোববার (২৮ জুন) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আগামী ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সিলেট, সুনামগঞ্জ, নীলফামারী, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, রংপুর, গাইবান্ধা, শেরপুর, ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি দেখা দিতে পারে।
সকাল ৯টার তথ্যানুযায়ী, ফেঞ্চুগঞ্জ স্টেশনে কুশিয়ারা নদীর পানি ৯ দশমিক ৪৯ মিটার রেকর্ড করা হয়েছে, যা বিপৎসীমার ৪ সেন্টিমিটার ওপরে প্রবাহিত হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় পানির উচ্চতা আরও ৩ সেন্টিমিটার বেড়েছে। এছাড়া নীলফামারীর তিস্তা, সুনামগঞ্জের কুশিয়ারা এবং নেত্রকোনার সোমেশ্বরী নদী সতর্কসীমায় প্রবাহিত হচ্ছে।
বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র জানিয়েছে, সুরমা-কুশিয়ারা অববাহিকার নদীগুলোর পানি আগামী তিন দিন বাড়তে পারে। এতে সিলেট ও সুনামগঞ্জের কয়েকটি পয়েন্টে বিপৎসীমা অতিক্রমের সম্ভাবনা রয়েছে। ব্রহ্মপুত্র-যমুনা অববাহিকায়ও পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা আগামী ১ থেকে ৩ জুলাইয়ের মধ্যে কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর ও বগুড়ার নিম্নাঞ্চলে প্লাবন ঘটাতে পারে।
গঙ্গা-পদ্মা অববাহিকায় গঙ্গার পানি কিছুটা কমলেও পদ্মার পানি বেড়েছে। আগামী কয়েক দিন তা স্থিতিশীল থাকলেও পরবর্তী সময়ে বৃদ্ধি পেতে পারে। রংপুর বিভাগের তিস্তা, দুধকুমার ও ধরলা নদীর পানি আগামী তিন দিনে বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে।
আবহাওয়া সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, আগামী চার দিন রংপুর, সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগে ভারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টিপাত হতে পারে। ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, অরুণাচল ও মেঘালয় অঞ্চলেও ভারি বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। উজানের এই বৃষ্টিপাতের কারণে দেশের নদীগুলোর পানি আরও বাড়তে পারে।
বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র জানিয়েছে, দেশের ২৪৮টি পর্যবেক্ষণ স্টেশনের মধ্যে ১২৭টিতে পানি বেড়েছে, ৬৯টিতে কমেছে এবং ৫২টিতে অপরিবর্তিত রয়েছে। বর্তমানে সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে কুশিয়ারা নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে প্রবাহিত হচ্ছে।



