সাহস, দক্ষতা ও প্রযুক্তিতে এসএসএফের পিছিয়ে থাকার সুযোগ নেই: প্রধানমন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ০৩:৩৪ পিএম
বিশেষায়িত নিরাপত্তা বাহিনী হিসেবে সাহস, দক্ষতা, কৌশল এবং সর্বাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারে স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ)-এর পিছিয়ে থাকার কোনো সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বৃহস্পতিবার তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এসএসএফের ৪০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এসএসএফ প্রতিষ্ঠার সময়ের তুলনায় বর্তমান বিশ্ব অনেক বেশি জটিল ও চ্যালেঞ্জপূর্ণ। আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিবর্তন, ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতা এবং তথ্যপ্রযুক্তির দ্রুত বিকাশের ফলে নিরাপত্তা ঝুঁকি বহুমাত্রিক হয়েছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আধুনিক ও যুগোপযোগী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বাহিনীকে সবসময় প্রস্তুত থাকতে হবে।
এসএসএফের সঙ্গে নিজের দীর্ঘদিনের পরিচয়ের কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, তরুণ বয়স থেকেই তিনি বাহিনীটির কার্যক্রম সম্পর্কে অবগত। সরকারপ্রধান হিসেবে বর্তমানে প্রতিনিয়ত তিনি এসএসএফের কর্মকাণ্ড সরাসরি পর্যবেক্ষণ করছেন।
তিনি বলেন, সরকারপ্রধানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি জনগণের সঙ্গে সরকারের দূরত্ব যাতে না বাড়ে, সে বিষয়েও এসএসএফকে বিশেষভাবে সচেতন থাকতে হবে। নিরাপত্তার ঘেরাটোপ যেন সরকারপ্রধানকে জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন না করে, সেদিকে নজর দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী জানান, জনগণের ভোগান্তি কমাতে তার সরকারি গাড়িবহরের আকার সীমিত করা হয়েছে। ফলে সদস্য সংখ্যা বাড়ানোর পরিবর্তে এসএসএফকে দক্ষতা ও আধুনিক নিরাপত্তা কৌশলের ওপর আরও বেশি গুরুত্ব দিতে হচ্ছে।
তিনি বলেন, রাজধানী ও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে জনসমাগমপূর্ণ কর্মসূচিতে সরকারপ্রধানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা একটি জটিল কাজ। এ ক্ষেত্রে নিরাপত্তা বজায় রাখা এবং সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা নিশ্চিত করার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করেই এসএসএফকে দায়িত্ব পালন করতে হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এসএসএফের নবনির্মিত অত্যাধুনিক ফায়ারিং রেঞ্জ উদ্বোধন করেন এবং একটি মহড়া প্রত্যক্ষ করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বাহিনীর সদস্যরা পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধিতে এই সুবিধার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করবেন।
তারেক রহমান জানান, ২০০২ সালের পর সময়ের চাহিদা অনুযায়ী এসএসএফের ‘রেড বুক’ পুনর্গঠন করে আরও আধুনিক ও যুগোপযোগী করা হয়েছে। এটি বাহিনীর কার্যক্রম পরিচালনার নীতিমালার পাশাপাশি আইনি সুরক্ষাও নিশ্চিত করেছে।
এসএসএফ সদস্যদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আধুনিক প্রযুক্তিগত দক্ষতার পাশাপাশি সাহস, সততা, বিশ্বস্ততা, পেশাদারিত্ব, নিয়মানুবর্তিতা এবং চেইন অব কমান্ড কঠোরভাবে অনুসরণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, রাষ্ট্রপ্রধান, সরকারপ্রধান এবং গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তার সঙ্গে জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়টিও ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তাই অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কার্যকর সমন্বয়ের মাধ্যমে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে হবে।
সবশেষে তিনি এসএসএফ সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, দায়িত্ব পালনের সময় জনগণের সঙ্গে সৌজন্যমূলক আচরণ নিশ্চিত করতে হবে এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও দেশপ্রেমের আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখতে হবে।



