দ্য এজ মালয়েশিয়ার প্রতিবেদন
নজর এখন এস আলম–সংশ্লিষ্ট মালয়েশিয়ার দুই হোটেলের দিকে, নানা দেশে তদন্ত বিস্তৃত হচ্ছে
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ জুন ২০২৬, ০৯:৩৯ পিএম
বাংলাদেশের বিতর্কিত ব্যবসায়ী ও সিঙ্গাপুরের নাগরিক মোহাম্মদ সাইফুল আলমের (এস আলম) বিশাল ব্যবসায়িক সাম্রাজ্য নিয়ে ক্রমাগত তদন্ত চলছে। এই সাম্রাজ্যের ভিত্তি চট্টগ্রাম থেকে ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চল পর্যন্ত বিস্তৃত। কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, এস আলম তাঁর ব্যবসায়িক সাম্রাজ্যের বেশির ভাগটাই গড়ে তুলেছেন পাচারের অর্থ দিয়ে।
মে মাসের মাত্র দুই সপ্তাহের ব্যবধানে এস আলমকে ঘিরে একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ঘটেছে। সাইপ্রাসে তাঁর ও তাঁর স্ত্রীর যৌথ মালিকানাধীন একটি বিলাসবহুল আবাসিক সম্পত্তি আদালতের নির্দেশে জব্দ করা হয়েছে। একই সময়ে বাংলাদেশের একটি আদালত তাঁর অনুপস্থিতিতে তাঁকে পাঁচ মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন।
একই সময়ে সিঙ্গাপুরের তদন্তকারীরা তাঁর ব্যবসায়িক সাম্রাজ্য নিয়ে তদন্ত চালাতে শুরু করেছে। শুধু সিঙ্গাপুরেই তাঁর সম্পদের পরিমাণ ১০০ কোটি মার্কিন ডলার (প্রায় ৪০০ কোটি রিঙ্গিত) ছাড়িয়ে গেছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এখন মনোযোগ মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরের দুটি পরিচিত হোটেলের দিকে। এগুলোর সঙ্গে এস আলম গ্রুপের সম্পর্ক রয়েছে। আর এস আলম হলেন এ গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান। এগুলো হলো কুয়ালালামপুরের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত রেনেসাঁ কুয়ালালামপুর হোটেল অ্যান্ড কনভেনশন সেন্টার এবং এর পাশের ফোর পয়েন্টস বাই শেরাটন কুয়ালালামপুর সিটি সেন্টার।
দুটি হোটেলের মালিক ভেনচুরা ইন্টারন্যাশনাল এসডিএন বিএইচডি (আগের নাম কানালি লজিস্টিকস এসডিএন বিএইচডি)। প্রতিষ্ঠানটি এস আলম গ্রুপের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে জানা গেছে।
২০১৬ সালে আইজিবি বিএইচডি (তৎকালীন নাম আইজিবি কর্প বিএইচডি) মূল রেনেসাঁ হোটেলটি ভেনচুরা ইন্টারন্যাশনালের কাছে ৭৬ কোটি ৫০ লাখ রিঙ্গিতে বিক্রি করেছিল।
ভেনচুরা ইন্টরন্যাশনাল কোম্পানির তথ্য অনুসন্ধান করে দেখা গেছে, ওয়াইআইএফ হোল্ডিং মালয়েশিয়া এসডিএন বিএইচডির হাতে প্রতিষ্ঠানটির ১০০ শতাংশ মালিকানা আছে।
ওয়াইআইএফ হোল্ডিং মালয়েশিয়ার তথ্য অনুসন্ধান করে দেখা গেছে, ওং ওয়াই চিয়ং, পু সিন ইয়ে এবং আরিভালাগান চোকালিংগামের পরিচালক। প্রতিষ্ঠানটি সম্পূর্ণভাবে সিঙ্গাপুরের ওয়াইআইএফ হোল্ডিং পিটিই লিমিটেডের মালিকানাধীন।
ওয়াইআইএফ হোল্ডিং পিটিই লিমিটেডের তথ্য ঘেঁটে দেখা যায়, এটি মূলত আর্থিক ও বিমাবহির্ভূত খাতে কাজ করা কোম্পানিগুলোর জন্য একটি হোল্ডিং কোম্পানি হিসেবে কাজ করে। কোম্পানিটির শেয়ারহোল্ডার হিসেবে আছে ‘হিলড্রিকস এশিয়া গ্রোথ ফান্ড ভিসিসি’।
প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক হিসেবে চু কি সিয়ংয়ের নাম তালিকাভুক্ত আছে। তিনি একই সঙ্গে হিলড্রিকস ক্যাপিটালের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও), নির্বাহী পরিচালক এবং প্রধান বিনিয়োগ কর্মকর্তা (সিআইও)।
হিলড্রিকস ক্যাপিটালের বিনিয়োগ পোর্টফোলিওতে মালয়েশিয়ার রাবার প্রস্তুতকারী ও পরিবেশক প্রতিষ্ঠান জিআইআইবি হোল্ডিংস বিএইচডির নাম আছে।
এইচএজিএফ ইনভেস্টমেন্ট (আই) পিটিই লিমিটেড একসময় এই প্রতিষ্ঠানে ১৬ দশমিক ৫৬ শতাংশ শেয়ারের মালিক ছিল। এইচএজিএফ ইনভেস্টমেন্ট (আই) পিটিই লিমিটেড হলো হিলড্রিকস এশিয়া গ্রোথ ফান্ড ১-এর শতভাগ মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান। তবে গত ২১ মে দাখিল করা নথিতে দেখা গেছে, তারা পরে কিছু শেয়ার বিক্রি করে দিয়েছে। তারা আর উল্লেখযোগ্য শেয়ারহোল্ডার হিসেবে থাকেনি।
জিআইআইবি নানা কারণে সংবাদের শিরোনামে এসেছে। এর মধ্যে আছে—দুর্নীতির তদন্ত, করপোরেট ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ, আইনি বিরোধ ও আর্থিক ক্ষতি।
ভেনচুরা ইন্টারন্যাশনাল ২০২০ সালে বড় ধরনের সংস্কারের জন্য রেনেসাঁ হোটেলটি বন্ধ করে দিয়েছিল। পরে ২০২৩ সালের অক্টোবরে মালয়েশিয়ার ম্যারিয়ট ইন্টারন্যাশনালের প্রথম দ্বৈত-ব্র্যান্ডের সম্পত্তি হিসেবে এটি আবার চালু করা হয়। এর পশ্চিম অংশে রেনেসাঁ হোটেল এবং পূর্ব অংশে নতুন ফোর পয়েন্টস বাই শেরাটন।
ভেনচুরা ইন্টারন্যাশনাল ২০২০ সালে বড় ধরনের সংস্কারের জন্য রেনেসাঁ হোটেলটি বন্ধ করে দিয়েছিল। পরে ২০২৩ সালের অক্টোবরে মালয়েশিয়ার ম্যারিয়ট ইন্টারন্যাশনালের প্রথম দ্বৈত-ব্র্যান্ডের সম্পত্তি হিসেবে এটি আবার চালু করা হয়। এর পশ্চিম অংশে রেনেসাঁ হোটেল এবং পূর্ব অংশে নতুন ফোর পয়েন্টস বাই শেরাটন।
ম্যারিয়টের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের চ্যানেলগুলোয় এখনো দুই হোটেলের মালিক হিসেবে ভেনচুরা ইন্টারন্যাশনালের নাম রয়েছে। মালয়েশিয়ার কর্তৃপক্ষ এই হোটেলগুলোর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিয়েছে বা সম্পত্তিগুলোর ওপর কোনো জব্দাদেশ দিয়েছে বলে এখন পর্যন্ত কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি।
তবে সূত্রগুলো বলছে, যেহেতু আন্তর্জাতিক তদন্তের পরিধি অনেক বিস্তৃত, তাই বাংলাদেশ যদি বিভিন্ন দেশে সম্পদ পুনরুদ্ধারের প্রচেষ্টা চালায়, তাহলে মালয়েশিয়ায় এস আলম গ্রুপের সঙ্গে সম্পর্কিত সম্পদও তদন্তের আওতায় আসতে পারে। এ ঘটনার সময়কাল কূটনৈতিক দিক থেকেও একটি উল্লেখযোগ্য মাত্রা যোগ করেছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফর
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির বিজয়ের পর দলটির নেতা তারেক রহমান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন। তিনি তার প্রথম বিদেশ সফরের গন্তব্য হিসেবে মালয়েশিয়াকে বেছে নিয়েছেন।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ সফরের প্রথম আমন্ত্রণ এসেছিল ভারত থেকে। এরপর মালয়েশিয়া এবং চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং আমন্ত্রণ জানান। গত সপ্তাহে মালয়েশিয়ার সফরটি চূড়ান্তভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে বলে জানা গেছে। ২১ ও ২২ জুন দুই দিনের এই কুয়ালালামপুর সফর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। সফরের দ্বিতীয় দিনে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে তারেক রহমানের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হওয়ার কথা আছে।
কূটনৈতিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ হাইকমিশন গত ২৪ মে মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সফর নিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু করে। এর কয়েক দিন আগে সাইপ্রাসের আদালত এস আলমের সম্পত্তি জব্দ করেছিল। বাংলাদেশ হাইকমিশনের সঙ্গে আলোচনার পর মালয়েশিয়া ইতিবাচক সাড়া দেয়। ১ জুন আনোয়ার ইব্রাহিম আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ নিশ্চিত করেন।
সফরকালে কী কী বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তবে এতে অভিবাসন, শ্রমবাজার, বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং শিক্ষাবিষয়ক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা আছে। বর্তমানে ১০ হাজারের বেশি বাংলাদেশি শিক্ষার্থী মালয়েশিয়ার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছেন।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর প্রথম বিদেশ সফরের জন্য এমন একটি দেশকে বেছে নিচ্ছেন, যেখানে সম্ভবত এস আলম গ্রুপের সবচেয়ে প্রকাশ্য আন্তর্জাতিক সম্পদ রয়েছে। আর তা হলো—মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে থাকা ম্যারিয়ট ব্র্যান্ডের দুটি বড় হোটেল। পর্যবেক্ষকদের মতে, এ ঘটনাকে নিছক কাকতালীয় বলে উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
তারেক রহমানের সফরের একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকারের জায়গা হলো মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি শ্রমিকদের জন্য বিদেশি শ্রমবাজার আবারও চালু করা।
অনেক অভিযোগ ওঠার পর ২০২৪ সাল থেকে এই শ্রমবাজার বন্ধ রয়েছে। অভিযোগগুলোর মধ্যে ছিল আধুনিক যুগের ঋণদাসত্বের মতো পরিস্থিতি। শ্রমিকদের মালয়েশিয়ায় চাকরি পেতে বিপুল ঋণের বোঝা নিতে হতো। বিষয়টি ২০২৩ সালে চরমে পৌঁছায়। তখন অনেক শ্রমিক জনপ্রতি ৬ হাজার ৬০০ মার্কিন ডলার (প্রায় ৮ লাখ টাকা) পর্যন্ত খরচ করে মালয়েশিয়ায় পৌঁছানোর পর দেখতে পান, নিয়োগদাতাদের প্রতিশ্রুত চাকরিগুলোর বাস্তবে কোনো অস্তিত্বই নেই।
২০২৪ সালের শুরুতে মালয়েশিয়া শ্রমিক প্রবেশ বন্ধ করে দিলে বাংলাদেশে এজেন্টদের অর্থ পরিশোধ করা প্রায় ১৮ হাজার শ্রমিক মালয়েশিয়ায় ঢুকতে পারেননি।
নতুন সরকারের সময় বাংলাদেশে শুরু হওয়া অভিযানের মধ্যে এসব এজেন্টের অনেকেই গা ঢাকা দিয়েছেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই এজেন্টরা ছিলেন শেখ হাসিনা সরকারের সময়কার একটি ব্যবস্থার অংশ, যেখানে রাজনীতিবিদ ও নিয়োগকারী এজেন্টরা একসঙ্গে কাজ করে বাংলাদেশের শ্রম রপ্তানি থেকে সুবিধা নিতেন।
জনশক্তি খাতের এক নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, মালয়েশিয়া ও বাংলাদেশের মধ্যে শ্রমিক নিয়োগের পথ চালু করাটা তারেক রহমানের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক মাইলফলক। কারণ, বিদেশ থেকে আসা রেমিট্যান্স (প্রবাসী আয়) বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকা শক্তি।
ওই কর্মকর্তা দ্য এজ-কে বলেন, ‘বাংলাদেশ চায় না যে বিদেশি শ্রমিক নিয়োগের বর্তমান পদ্ধতি অব্যাহত থাকুক। তারা চায় মালয়েশিয়া সরকার বিদেশি শ্রমিক নিয়োগের সুযোগটি আরও বেশিসংখ্যক বাংলাদেশি কোম্পানির জন্য খুলে দিক, কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তির বাছাইকৃত অল্প কিছু প্রতিষ্ঠানের মধ্যে তা সীমাবদ্ধ না রাখুক।’
এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সরকার বর্তমানে ১০২টি অনুমোদিত প্রতিষ্ঠানের পরিবর্তে ৪৩২টি নিয়োগকারী সংস্থাকে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি বিবেচনা করছে বলে জানা গেছে।
বর্তমান ১০২টি প্রতিষ্ঠান ফরেন ওয়ার্কার সেন্ট্রালাইজড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের আওতায় অনুমোদনপ্রাপ্ত। এই বিদেশি শ্রমিক ব্যবস্থাপনা পদ্ধতিটি তৈরি করেছে বেস্টিনেট এসডিএন বিএইচডি।
বেস্টিনেটের প্রতিষ্ঠাতা আমিনুল ইসলাম আবদুল নূর জন্মসূত্রে বাংলাদেশি হলেও বর্তমানে মালয়েশিয়ার নাগরিক। শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ২০২৪ সালে বাংলাদেশ সরকার আমিনুল ও তাঁর সহযোগী রুহুল আমিনের প্রত্যর্পণ চেয়ে আবেদন করেছিল। বিষয়টি এখনো দুই দেশের সরকার পর্যায়ে আলোচনা ও প্রক্রিয়াধীন আছে।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর প্রথম বিদেশ সফরের জন্য এমন একটি দেশকে বেছে নিচ্ছেন, যেখানে সম্ভবত এস আলম গ্রুপের সবচেয়ে জ্ঞাত আন্তর্জাতিক সম্পদ রয়েছে। আর তা হলো মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে থাকা ম্যারিয়ট ব্র্যান্ডের দুটি বড় হোটেল।
সম্পদ পুনরুদ্ধার এবং আর্থিক অপরাধে সহযোগিতার বিষয়গুলো আনুষ্ঠানিক বা অনানুষ্ঠানিকভাবে দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় স্থান পাবে কি না, তা এখনো দেখার বিষয়।
তবে এটা পরিষ্কার, বাংলাদেশ–মালয়েশিয়া সম্পর্ক বর্তমানে উচ্চপর্যায়ের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার মধ্যে আছে। আর ঠিক সে সময়েই মালয়েশিয়ায় এস আলমের সম্পদ নিয়ে নজরদারি বাড়ছে এবং মালয়েশিয়া–বাংলাদেশ শ্রমবাজার আবার চালু করার চাপও বাড়ছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রগুলো দ্য এজকে বলেছে, কুয়ালালামপুরের ওই দুটি হোটেল আনুষ্ঠানিকভাবে কখনো বিক্রির জন্য বাজারে উপস্থাপন করা হয়নি। এ দুই হোটেলে মোট ৯১৯টি কক্ষ আছে।
তবে কয়েক বছর আগে মালিকপক্ষ এগুলোর সম্ভাব্য বিক্রয়মূল্য ঠিক করেছিল বলে জানা যায়। দুটি সম্পদের জন্য ১২৫ কোটি রিঙ্গিত বিক্রয়মূল্য নির্ধারণ করেছিল তারা।
তবে সম্পত্তি বেচাকেনার সঙ্গে জড়িত কয়েকজন এজেন্টের মতে, এই মূল্য কিছুটা বেশি। তাঁদের ধারণা, হোটেল দুটির যৌক্তিক বাজারমূল্য ৮৫ কোটি থেকে ৯৫ কোটি রিঙ্গিতের মধ্যে হওয়া উচিত।
বাংলাদেশি শ্রমিক নিয়োগের বাজারে যে অর্থের লেনদেন হয়, তা কয়েক শ কোটি রিঙ্গিত পর্যন্ত পৌঁছায় বলে জানা গেছে। অথচ নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রকৃত খরচটা সে অঙ্কের তুলনায় অনেক কম।
মালয়েশিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে ‘নিয়োগকর্তা খরচ বহন করবে’ নীতি অনুসরণ করে। কিন্তু বর্তমান ব্যবস্থায় এই নীতির কার্যকর বাস্তবায়ন এখনো কঠিন।
মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী রামানান রামাকৃষ্ণন বাংলাদেশি শ্রমিকদের গ্রাম পর্যায়ে শোষণ বন্ধ করার জন্য তুরাপ নামে একটি নতুন ব্যবস্থা প্রস্তাব করেছেন। তুরাপও বেস্টিনেটের তৈরি একটি ব্যবস্থা।
তবে বাংলাদেশে ও মালয়েশিয়ার কিছু অংশীজনের মধ্যে এ নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। তাঁদের ধারণা, এটি আসলে আরেকটি এমন ব্যবস্থা, যার মাধ্যমে বাংলাদেশি শ্রমিক নিয়োগ আবারও কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের হাতেই কেন্দ্রীভূত থাকবে।
বিশ্বজুড়ে তদন্তের জাল আরও শক্ত হচ্ছে
১৯ মে নিকোসিয়ার আদালত সাইপ্রাসের পারেক্লিশিয়া এলাকায় অবস্থিত একটি দোতলা আবাসিক ভবন জব্দ করার আদেশ দেন। এই ভবনের মালিক ছিলেন বাংলাদেশি ব্যবসায়ী মোহাম্মদ সাইফুল আলম এবং তাঁর স্ত্রী ফারজানা পারভীন।
বাংলাদেশের উদ্যোগে শুরু হওয়া পারস্পরিক আইনি সহায়তা প্রক্রিয়ার আওতায় সাইপ্রাসের অর্থ পাচারবিরোধী ইউনিট মোকাস আদালতে আবেদন করার পর এই আদেশ দেওয়া হয়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর প্রকাশ্যে বলেছেন, এই তদন্তে ৮০০ কোটি ইউরোর (প্রায় ৩৭ বিলিয়ন রিঙ্গিত) বেশি অর্থ দেশ থেকে পাচার হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
তদন্তের মূল অভিযোগ হলো, এস আলম-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশের বড় আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে বিপুল ঋণ নিয়েছিল। এর মধ্যে আছে—ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ এবং ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক। এসব ঋণের অনেকগুলোই পরে খেলাপি হয়ে যায়।
ওই ঋণের অর্থ সাইপ্রাস, ব্রিটিশ ভার্জিন দ্বীপপুঞ্জ এবং জার্সিতে নিবন্ধিত বিভিন্ন কোম্পানি ও ট্রাস্টের জটিল নেটওয়ার্কের মাধ্যমে বিদেশে পাঠানো হয়েছিল কি না, তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন।



