নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে সরকারের মেগা কর্মপরিকল্পনা
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১০ জুন ২০২৬, ০৬:৫৯ পিএম
সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষিত কর্মসূচি বাস্তবায়নে সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগ ১৮০ দিনের, ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের এবং আগামী পাঁচ বছরের জন্য মেগা কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করেছে। এসব কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বুধবার (১০ জুন) বাজেট অধিবেশনের চতুর্থ দিনে পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মো. শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এ তথ্য দেন।
প্রধানমন্ত্রী জানান, নির্বাচনী ইশতেহারের আলোকে ইতোমধ্যে বেশ কিছু অগ্রাধিকারমূলক কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—
ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড: নারীপ্রধান পরিবারকে মাসিক আড়াই হাজার টাকা দেওয়া হচ্ছে। এ পর্যন্ত ৬০ হাজারের বেশি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হয়েছে। কৃষকের ইউনিক পরিচয় নিশ্চিত করতে কৃষক কার্ড বিতরণ শুরু হয়েছে, যা ইতোমধ্যে ২০ হাজারের বেশি কৃষক পেয়েছেন।
ই-হেলথ কার্ড ও সম্মানী ভাতা: ১৮০ দিনের কর্মসূচির আওতায় মসজিদ, মন্দির, বৌদ্ধ বিহার ও গির্জায় কর্মরতদের মাসিক সম্মানী দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি খুলনা, নোয়াখালী, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ ও নরসিংদীতে ই-হেলথ কার্ড চালু হবে।
কর্মসংস্থান ও শিক্ষা: সরকার ৫ লাখ সরকারি কর্মচারী নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস বিতরণ এবং ‘ওয়ান টিচার ওয়ান ট্যাব’ কর্মসূচি চালু হচ্ছে। কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফ্রি ওয়াই-ফাই চালু হবে।
পেপ্যাল ও অবকাঠামো উন্নয়ন: হাই-টেক পার্কগুলো কার্যকরভাবে পরিচালনা এবং পেপ্যাল চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি ইউনিয়ন ও উপজেলায় উন্মুক্ত খেলার মাঠ তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে।
পরিবেশ ও বিদ্যুৎ: ৬৬৬টি খাল খনন ও পুনঃখনন কর্মসূচি চলছে। আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদনে রুফটপ সোলার ও নেট মিটারিংয়ের মাধ্যমে ইতোমধ্যে জাতীয় গ্রিডে ৩৫ মেগাওয়াট যুক্ত হয়েছে।
ক্রীড়াখাত উন্নয়ন: ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৬’ কর্মসূচি চালু হয়েছে। জাতীয় ক্রীড়াবিদদের জন্য ভাতা ও ক্রীড়া কার্ড প্রদান শুরু হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এসব কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ এবং পরিবেশ সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হবে।



