জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মমুখী শিক্ষার প্রশিক্ষণ উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬, ০২:০৬ পিএম
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কারিকুলামে কর্মমুখী ও কারিগরি শিক্ষা বিষয়ে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার (৭ জুন) বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ‘কর্মমুখী শিক্ষা নেব, বিশ্বজুড়ে কাজ করব’ প্রতিপাদ্যে কর্মমুখী শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ ফ্যাসিবাদী শাসনে শিক্ষা ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়েছিল। এখন গণতান্ত্রিক বাংলাদেশে আধুনিক, বাস্তবমুখী ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে ঘুরে দাঁড়ানোর সময় এসেছে। তিনি উল্লেখ করেন, বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে জ্ঞান, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা জরুরি। বর্তমানে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ২ হাজারের বেশি কলেজে প্রায় ৪০ লাখ শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে।
তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, উচ্চশিক্ষার প্রসার নিশ্চিত করতে ১৯৯২ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের যুগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার সিকিউরিটি, প্রোগ্রামিং, ডিজিটাল উদ্যোক্তা উন্নয়ন, নেতৃত্ব, উপস্থাপনা দক্ষতা ও আর্থিক সাক্ষরতার মতো বিষয়গুলোকে কারিকুলামে অন্তর্ভুক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। পাশাপাশি জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং, বায়োটেকনোলজি, কোয়ান্টাম কম্পিউটিং, ন্যানো টেকনোলজি, থ্রিডি প্রিন্টিং এবং ফাইভ-জি প্রযুক্তির মতো উদীয়মান ক্ষেত্রেও শিক্ষার্থীদের প্রস্তুত করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধু সনদনির্ভর শিক্ষা নয়, দক্ষতাভিত্তিক ও কর্মমুখী শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে। বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পখাতের মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধি, ইন্টার্নশিপ এবং ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া সংযোগ বাধ্যতামূলক করার ওপর তিনি জোর দেন।
তিনি জানান, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে উদ্ভাবনী ব্যবসায়িক ধারণা বাস্তবায়নের জন্য প্রতিযোগিতার ভিত্তিতে ‘সিড ফান্ডিং’ বা ‘ইনোভেশন গ্র্যান্ট’ দেওয়া হবে, যাতে শিক্ষার্থীরা উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে উঠতে পারে এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়।
শিক্ষকদের জ্ঞান, দক্ষতা ও সততার গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিক্ষকরা সমাজ পরিবর্তনের অগ্রদূত এবং শিক্ষার্থীদের রোল মডেল। একই সঙ্গে প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষা, মানসিক স্বাস্থ্য, সামাজিক অন্তর্ভুক্তি ও পরিবেশ সংরক্ষণেও গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।



