ঈদের আনন্দের মধ্যেই দেশের বিভিন্ন জেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তত ১৬ জন নিহত হয়েছেন। কেউ ঈদ করতে বাড়ি ফিরছিলেন, কেউ নামাজ শেষে বন্ধুদের নিয়ে ঘুরতে বের হয়েছিলেন, আবার কেউ বাসে করে ঢাকায় ফিরছিলেন। নিহতদের মধ্যে ১০ জনই মোটরসাইকেলের চালক বা আরোহী। নিহতদের মধ্যে তিন শিশু ও দুই কিশোরও রয়েছে।
গত বুধবার সন্ধ্যা থেকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় গোপালগঞ্জে পাঁচজন, ফরিদপুরে তিনজন, দিনাজপুর, নরসিংদী ও পটুয়াখালীতে দুজন করে এবং মাদারীপুর ও নড়াইলে একজন করে নিহত হন।
গোপালগঞ্জে নিহত ৫
গোপালগঞ্জে বাস ও মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে পাঁচজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ২৫ জন। বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের গোপালগঞ্জ শহরের বেদগ্রাম এলাকায় দুর্ঘটনাটি ঘটে।
নিহত পাঁচজনের মধ্যে তিনজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন—বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার বড়বাড়িয়া গ্রামের সমেশ ঢালীর ছেলে শয়ন ঢালী (২০), একই উপজেলার গোলাগ্রামের মাহাবুব শেখের ছেলে সোয়াইব শেখ এবং পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার কলারদোয়ানিয়া গ্রামের আবদুল খালেকের মেয়ে খাদিজা খাতুন।
পুলিশ সুপার জানান, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা পিরোজপুরগামী দোলা পরিবহণের একটি যাত্রীবাহী বাস বেদগ্রাম এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি মোটরসাইকেলের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের ওপর উলটে যায়। ঘটনাস্থলেই মোটরসাইকেলের দুই আরোহী ও বাসের দুই যাত্রী নিহত হন। পরে আহতদের উদ্ধার করে গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও গোপালগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক ৬ বছর বয়সি এক শিশুকে মৃত ঘোষণা করেন।
চার জেলায় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত ৮
ফরিদপুর, নরসিংদী, পটুয়াখালী ও নড়াইলে পৃথক মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আটজন নিহত হয়েছেন। তারা সবাই মোটরসাইকেলের চালক বা আরোহী ছিলেন।
পটুয়াখালীর গলাচিপায় ঈদের নামাজ শেষে ঘুরতে বের হয়ে অটোরিকশার সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে দুই কিশোর নিহত হয়। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে উপজেলা শহরের গ্রামীণ ব্যাংক এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন—পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের শ্যামলীবাগ এলাকার মো. ফয়সাল হাওলাদার (১৬) ও তামিম মাতুব্বর (১৬)।
নরসিংদীর শিবপুরে দুটি মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুই তরুণ নিহত হয়েছেন। বুধবার সন্ধ্যায় ঘটনাস্থলেই একজনের মৃত্যু হয়। পরে বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান আরেকজন। নিহতরা হলেন—শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার প্রতাপনগর গ্রামের রুমান মিয়া (২৬) এবং নরসিংদী সদর উপজেলার শীলমান্দী ইউনিয়নের বাগহাটা গ্রামের চান মিয়া (১৯)।
নড়াইলের লোহাগড়ায় মোটরসাইকেলে ঘুরতে বের হয়ে বাসের সঙ্গে সংঘর্ষে সাব্বির গাজী (১৮) নামে এক তরুণ নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার বেলা ৩ টার দিকে উপজেলার আলামুন্সির মোড় এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত হয়েছেন তার বন্ধু শওকত হোসেন (১৯)। নিহত সাব্বির যশোরের অভয়নগর উপজেলার দিঘলিয়া গ্রামের বাবুল গাজীর ছেলে এবং আহত শওকত একই গ্রামের রিপন গাজীর ছেলে।
ফরিদপুরের ভাঙ্গায় পৃথক দুর্ঘটনায় তিনজন নিহত হয়েছেন। বুধবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের পূর্ব সদরদী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় দুটি মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে চালক সাইফুল মোল্লা (২৫) ও আল ইমরান শরীফ (২৮) নিহত হন। আহত হন আরও দুই আরোহী।
এ ছাড়া বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে উপজেলার আলগী ইউনিয়নের সুয়াদী গ্রামের সিসিবিএল তেল পাম্পের সামনে দুই মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে মো. আলিমুজ্জামান মাতুব্বর (৫৫) নিহত হন। আহত হয়েছেন আরও তিনজন। আলিমুজ্জামানের বাড়ি ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার উত্তরকান্দি গ্রামে।
আরও তিনজন নিহত
দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলায় মহাসড়কে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ট্রাকের পেছনে সিএনজিচালিত অটোরিকশা ধাক্কা দিলে দুই শিশু নিহত হয়। বৃহস্পতিবার ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে কানাগাড়ি বাজার এলাকায় দিনাজপুর-গোবিন্দগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত শিশুরা হলো জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার রশিদপুর গ্রামের মো. আবদুল্লাহ (৪) এবং দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলার বারো আরিয়া গ্রামের আরিফা খাতুন (৪)। আহত হয়েছেন তাদের দুই মা।
মাদারীপুরের শিবচরে বাস থেকে ছিটকে পড়ে সাত্তার হাওলাদার (৫৫) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ের পদ্মা সেতুসংলগ্ন সীমানা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত সাত্তার হাওলাদারের বাড়ি ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলায়।
জানা গেছে, ভাঙ্গা থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে আসা প্রচেষ্টা পরিবহণের বাসটির ইঞ্জিন কভারের ওপর বসেছিলেন তিনি। সীমানা এলাকায় পৌঁছালে চালক হঠাৎ ব্রেক করলে তিনি বাস থেকে ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন। পরে তার মৃত্যু হয়।



