সাভারের শিল্পনগরীতে জমছে কোরবানির চামড়া, দাম নিয়ে ক্ষোভ
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ মে ২০২৬, ১২:২৮ এএম
ঈদুল আজহার প্রথম দিনেই ঢাকার সাভারের চামড়া শিল্পনগরীতে জমতে শুরু করেছে কোরবানির পশুর কাঁচা চামড়া। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত প্রায় ৮০ হাজার চামড়া শিল্পনগরীতে প্রবেশ করেছে। তবে সরবরাহ বাড়লেও বাজারে প্রত্যাশিত দাম না পাওয়ায় মৌসুমি ব্যবসায়ী ও মাদ্রাসার প্রতিনিধিরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
চামড়া সংগ্রহের পরিস্থিতি
বিসিক কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মেহরাজুল মাইয়ান জানান, দুপুর ১২টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত ৩৪১টি ট্রাকে করে মোট ৭৯ হাজার ২১৮টি চামড়া শিল্পনগরীতে এসেছে। এর মধ্যে গরু ও মহিষের চামড়া ৭৮ হাজার ৫১৫টি এবং ছাগল-ভেড়ার চামড়া ৭০৩টি। তিনি বলেন, দ্রুত সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণের কাজ চলছে এবং আগামী দুই দিনে সরবরাহ আরও বাড়বে।
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ
মৌসুমি ব্যবসায়ী ও মাদ্রাসার প্রতিনিধিরা অভিযোগ করেছেন, আড়তদাররা সরকার নির্ধারিত দামের তুলনায় অনেক কম দাম দিচ্ছেন। বলিয়াপুরের ব্যবসায়ী পরেশ জানান, মাঠপর্যায় থেকে ৭০০ টাকা দরে চামড়া কিনলেও আড়তে মাত্র ৬০০ টাকা দাম পাওয়া যাচ্ছে। গাজীপুরের টঙ্গীর এক মাদ্রাসা প্রতিনিধি বলেন, আড়তে কম দাম পাওয়ায় তারা সরাসরি ট্যানারিতে চামড়া নিয়ে যাচ্ছেন।
আড়ত মালিকরা বলছেন, ট্যানারিগুলোর কাছে কোটি কোটি টাকা বকেয়া আটকে আছে এবং ব্যাংক ঋণের সুবিধা না থাকায় নগদ অর্থ সংকট তৈরি হয়েছে। ফলে প্রত্যাশিত দামে চামড়া কেনা কঠিন হয়ে পড়ছে।
আন্তর্জাতিক বাজারের প্রভাব
ট্যানারি মালিকরা জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে দরপতন, এলডাব্লিউজি সনদের অভাব এবং রপ্তানিতে চীনের ওপর অতিনির্ভরতা চামড়া শিল্পকে বড় ধরনের চাপে ফেলেছে। আজমীর লেদারের মালিক মো. শহিদুল্লাহ বলেন, বাজার পরিস্থিতি ভালো না হওয়ায় ব্যবসায়ীরা চাপে রয়েছেন।
বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. মিজানুর রহমান জানান, এ বছর দেশজুড়ে প্রায় এক কোটি পিস চামড়া সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। তিনি বলেন, রাতেই বেশি বেচাকেনা হয়, তখন দ্রুত দর নির্ধারণ করতে গিয়ে কিছু জটিলতা তৈরি হয়। তবে সামগ্রিকভাবে এখন পর্যন্ত সংগ্রহ পরিস্থিতি সন্তোষজনক।



