লন্ডনে আম্বার গ্রুপের মালিকের বিলাসবহুল ব্যবসা, আর বাংলাদেশে হাজার কোটি টাকার ঋণখেলাপি
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২১ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৫১ পিএম
লন্ডনের অভিজাত রিজেন্ট পার্কে মিলিয়ন পাউন্ড মূল্যের বাড়ি ও বাণিজ্যিক ভবন, আর দেশে হাজার কোটি টাকার ঋণখেলাপি—এই বৈপরীত্যে আলোচনায় এসেছেন আম্বার গ্রুপের চেয়ারম্যান ও এমডি শওকত আজিজ রাসেল। অনুসন্ধানে পাওয়া নথিপত্র বলছে, তার মালিকানাধীন আম্বার ওভারসিজ লিমিটেডের মাধ্যমে যুক্তরাজ্যে রিয়েল এস্টেট ব্যবসা গড়ে উঠেছে। একই সময়ে দেশে একাধিক ব্যাংক থেকে বিপুল ঋণ নিয়ে তা পরিশোধে ব্যর্থ হয়ে তিনি বড় ঋণখেলাপিতে পরিণত হয়েছেন।
তথ্য অনুযায়ী, লন্ডনের বেথনাল গ্রিন রোডে ৮.৫ মিলিয়ন পাউন্ড মূল্যের বহুতল ভবন এবং চেস্টার ক্লোজ নর্থ রোডে ৩ মিলিয়ন পাউন্ড মূল্যের আবাসিক বাড়ি রয়েছে তার নামে। এসব সম্পত্তি থেকে মাসে কয়েক কোটি টাকা ভাড়া আদায় হয়। তবে দেশে তার মালিকানাধীন আম্বার গ্রুপের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ব্যাংক ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হয়ে পড়েছে।
নথিপত্র বলছে, শওকত আজিজ বিভিন্ন সময়ে সরকারি-বেসরকারি ১৪টি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ১ হাজার ৩৪৩ কোটি টাকার ঋণ নেন। এর মধ্যে ৫২১ কোটি টাকা বকেয়া হয়ে যায়। বর্তমানে তার মোট স্থিতি দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ হাজার ৯০০ কোটি টাকা। আদালতের স্থগিতাদেশ নিয়ে তিনি ব্যাংকগুলোর অর্থ পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া আটকে দেন।
সম্প্রতি ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (ইউসিবি) নিয়ে মিথ্যা তথ্য দিয়ে রিট পিটিশন করায় আদালত তাকে অর্থদণ্ড দেন। ব্যাংক খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আম্বার গ্রুপের ব্যবসার আকারের তুলনায় ঋণ বেড়ে যাওয়ায় চাপ বাড়ছে এবং নগদ প্রবাহের সংকটে গ্রুপটির ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে।
এদিকে গাজীপুরে তার মালিকানাধীন ‘ভাওয়াল রিসোর্ট অ্যান্ড স্পা’তে সম্প্রতি জেলা প্রশাসনের অভিযানে বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধার হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, বনের জমি ও কৃষিজমি দখল করে ওই রিসোর্ট গড়ে তোলা হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, বিদেশে অর্থ পাচারের প্রমাণ পাওয়া গেলে স্টোলেন অ্যাসেট রিকোভারি টাস্কফোর্সের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে শওকত আজিজের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, তার এত ঋণ নেই, বিদেশে কোনো সম্পদও নেই এবং তিনি অর্থ পাচার করেননি।



