দেশের হাম পরিস্থিতি মোকাবিলায় কাজ করছে সরকার: স্বাস্থ্য সচিব
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:২১ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
দেশে হামের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্য সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী। তিনি জানিয়েছেন, গত চার বছরে টিকাদান কর্মসূচিতে কিছুটা ছেদ পড়ায় বর্তমানে হামের প্রাদুর্ভাব বেড়েছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার জরুরি পদক্ষেপ নিয়েছে।
শনিবার (১১ এপ্রিল) বিশ্ব পারকিনসন দিবস উপলক্ষে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্স অ্যান্ড হসপিটালে আয়োজিত সেমিনারে সচিব বলেন, রোববার (১২ এপ্রিল) থেকে ঢাকা উত্তর-দক্ষিণ, চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ ও বরিশাল সিটি করপোরেশনে হামের টিকা কার্যক্রম শুরু হবে। তিনি নিশ্চিত করেন, দেশে টিকার কোনো ঘাটতি নেই।
গবেষক ও পরামর্শক টিমের সুপারিশ অনুযায়ী, ছয় মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সি সব শিশুকে টিকার আওতায় আনা হবে। তবে যেসব শিশু জ্বরে আক্রান্ত বা হাসপাতালে ভর্তি, তাদের অসুস্থ অবস্থায় টিকা দেওয়া যাবে না।
দেশজুড়ে হামের প্রাদুর্ভাব হঠাৎ বেড়ে গেছে। প্রতিদিনই আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা বাড়ছে। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় আরও চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং ১,১৭৭ শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। একই সময়ে ১৬৮ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গে ১৪৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে, আর হামে মারা গেছে ২৩ জন। আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২,৪০৯ এবং সন্দেহজনক হাম নিয়ে ভর্তি হয়েছে ৮,৯১০ জন। এর মধ্যে ৬,৬০৯ শিশু সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার ইতোমধ্যে ৫ এপ্রিল থেকে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ ১৮ জেলার ৩০টি উপজেলায় জরুরি টিকাদান কর্মসূচি চালু করেছে। ১২ এপ্রিল থেকে ঢাকা উত্তর-দক্ষিণ, চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ ও বরিশাল সিটি করপোরেশনে টিকা কার্যক্রম শুরু হবে এবং ২০ এপ্রিল থেকে সারাদেশে একযোগে টিকাদান কর্মসূচি চালু হবে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, আগে টিকা নেওয়া থাকলেও ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সি সব শিশুকে আবারও টিকা দেওয়া যাবে। তবে অসুস্থ শিশুদের টিকা দেওয়া যাবে না।
সার্বিকভাবে, সরকার হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে জরুরি টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করছে, যাতে শিশুদের জীবন রক্ষা করা যায়।



