Logo
Logo
×

জাতীয়

ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি’র ছায়া সংসদ

জ্বালানির দাম বাড়লে মুদ্রাস্ফীতির শঙ্কা রয়েছে : অধ্যাপক তামিম

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৪ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:০৩ পিএম

জ্বালানির দাম বাড়লে মুদ্রাস্ফীতির শঙ্কা রয়েছে : অধ্যাপক তামিম

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. ম. তামিম বলেছেন, বাংলাদেশে জ্বালানির দাম বাড়ানো হলে ব্যাপক মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কা রয়েছে। তবে দীর্ঘদিন ভর্তুকি দিয়ে জ্বালানি চাহিদা পূরণ করা সরকারের পক্ষে সম্ভব নয়। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ দীর্ঘমেয়াদি হলে জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি করতেই হবে।

শনিবার (৪ এপ্রিল) এফডিসিতে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির আয়োজনে জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় করণীয় নিয়ে এক ছায়া সংসদে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ। প্রতিযোগিতাটি আয়োজন করে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি।

ড. ম. তামিম বলেন, অতীতে অভ্যন্তরীণ জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা উপেক্ষা করে ব্যক্তি ও দলীয় স্বার্থ বিবেচনায় আমদানি নির্ভরতা বাড়ানো হয়েছে। ফলে বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় আমদানিকারক দেশ হিসেবে আমরা সংকটে পড়েছি। জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতে পূর্বের নীতির সংশোধন প্রয়োজন। মধ্যপ্রাচ্য সংকট শুরুর আগে আমাদের একসময় একটা জ্বালানি মাত্র ২ দিনের মজুদ ছিল। তখন কোনো আতঙ্ক তৈরি না হলেও এখন ৭ থেকে ১৫ দিনের মজুদ থাকার পরেও প্যানিক সৃষ্টি হচ্ছে। আতঙ্কিত হয়ে মানুষ চাহিদার চেয়ে বেশি পেট্রল—অকটেন কিনছে। অথচ দেশে বড় সংকট হবার কথা ডিজেল নিয়ে। অতীতে সরকার জ্বালানি মজুদ ও সরবরাহ নিয়ে মিথ্যা তথ্য দেওয়ার কারণে বর্তমানে জনগণ সরকারি তথ্য বিশ্বাস করতে চাচ্ছে না।

অধ্যাপক তামিম বলেন, বিপিসি বিগত সময়ে প্রতিবছর ৩ হাজার কোটি টাকার নিচে মুনাফা করেনি। সেই হিসেবে গত দশ বছরে ৩০ হাজার কোটি টাকা প্রফিট করেছে। দুর্ভাগ্য হচ্ছে বিপিসি মুনাফার এই টাকা বিপদের জন্য না রেখে অন্য খাতে ব্যয় করেছে। সরকার সেই টাকা অন্য খাতে নিয়ে নিয়েছে।

সভাপতির বক্তব্যে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, বিগত সময়ের ভুল নীতির কারণে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতিতে আমাদের জ্বালানি নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে। জ্বালানি স্বনির্ভরতা অর্জনে নেতৃত্বের ব্যর্থতা ছিল। সে ব্যর্থতার মাশুল এখন জনগণ ভোগ করছে। অন্তর্বর্তী সরকারও জ্বালানি সক্ষমতা স্থিতিশীল রাখতে তেমন কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করেনি। কুইক রেন্টালের নামে ক্যাপাসিটি চার্জ প্রদানের বিষয়টি পর্যালোচনা করা জরুরি। আদানির সঙ্গে বিদ্যুৎ কেনার চুক্তিটি ছিল একপাক্ষিক। এতে বাংলাদেশের স্বার্থ সুরক্ষিত হয়নি।

তিনি বলেন, আওয়ামী সরকারের আমলে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি চুক্তিগুলো পুণঃমূল্যায়ন করা উচিত। জনগণকে স্বস্তিতে রাখতে সরকার প্রতিদিন জ্বালানি তেলে ১৬৭ কোটি টাকা ভর্তুকি দিলেও এখনো পর্যন্ত দাম বাড়ায়নি। তবে বৈশ্বিক পরিস্থিতি ও বিশ্বাজারে মূল্য বাড়ায় জ্বালানির দাম সমন্বয় করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধ পরিস্থিতিতে জ্বালানি তেল নিয়ে অস্থিরতা তৈরির মাধ্যমে সরকারের উপর চাপ তৈরি করা হওয়া অন্যায্য। তবে জ্বালানি তেল নিয়ে কোনো কুচক্রী মহল যাতে সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে না পারে তার জন্য গোয়েন্দা সংস্থাকে নজরদারি বাড়াতে হবে। প্যানিক বায়িং ও তেলের মজুদ থেকে বিরত থেকে সংকট মোকাবেলায় জাতিকে ঐক্যবদ্ধ থাকা উচিত।

ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির আয়োজনে “অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থা জোরদারের মাধ্যমেই জ্বালানি সংকট মোকাবেলা সম্ভব” শীর্ষক ছায়া সংসদে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস এন্ড টেকনোলজিকে পরাজিত করে স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের বিতার্কিকরা বিজয়ী হয়। প্রতিযোগিতায় বিচারক ছিলেন ড. এস এম মোর্শেদ, সাংবাদিক রিজভী নেওয়াজ, সাংবাদিক রিশান নসরুল্লাহ, সাংবাদিক আতিকুর রহমান ও সাংবাদিক জাফর ইকবাল। প্রতিযোগিতা শেষে অংশগ্রহণকারী দলকে ট্রফি, ক্রেস্ট ও সনদপত্র প্রদান করা হয়।

Swapno

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher

Major(Rtd)Humayan Kabir Ripon

Managing Editor

Email: [email protected]

অনুসরণ করুন