ছবি : সংগৃহীত
চেয়ারম্যান ও দুই কমিশনারের পদত্যাগের পর দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) নেতৃত্বশূন্য হয়ে পড়েছে। ফলে দাপ্তরিক কার্যক্রমও স্থবির হয়ে আছে। তবে শিগগিরই এই অচলাবস্থা কাটিয়ে ওঠার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে। নতুন কমিশন গঠনের উদ্যোগ শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে।
অন্তর্বর্তী সরকার ২০২৫ সালে যে দুর্নীতি দমন কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ জারি করেছিল, নবনির্বাচিত সরকার সেটি নতুন সংসদ অধিবেশনে তুলতে পারে। অধ্যাদেশ অনুমোদিত হলে দুদকের কাঠামোতে পরিবর্তন আসবে। নতুন কাঠামোয় চেয়ারম্যানসহ সর্বোচ্চ পাঁচজন কমিশনার থাকবেন। এর মধ্যে অন্তত একজন নারী এবং একজন আইটি-দক্ষ কমিশনার রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
কমিশন বাছাইয়ের জন্য সাত সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হবে। আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারক থাকবেন কমিটির নেতৃত্বে। গণবিজ্ঞপ্তি দিয়ে আবেদন নেওয়া হবে, যেখানে সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে কমপক্ষে ২০ বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। শর্টলিস্ট ও সাক্ষাৎকার শেষে প্রতি পদে দুজনের নাম রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো হবে। চূড়ান্ত নিয়োগ দেবেন রাষ্ট্রপতি, তবে কার্যত প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শেই সিদ্ধান্ত হবে।
চেয়ারম্যান পদে সাবেক সিনিয়র স্পেশাল জজ মোতাহার হোসেনের নাম আলোচনায় রয়েছে, যদিও তিনি বর্তমানে অসুস্থ। এছাড়া সাবেক যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ খন্দকার আবুল হোসেন, প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তা মো. আব্দুল্লাহ আল বাকী, ফাইনান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিলের চেয়ারম্যান ড. মো. সাজ্জাদ হোসেন ভূইয়া প্রমুখের নামও সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে শোনা যাচ্ছে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ শিগগিরই বাছাই কমিটি গঠন করবে। সবকিছু ঠিক থাকলে এই প্রক্রিয়ায়ই দুদকের নতুন কমিশন গঠিত হবে।
প্রসঙ্গত, গত ৩ মার্চ অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে নিয়োগ পাওয়া দুদক চেয়ারম্যান ড. এমএ মোমেন এবং দুই কমিশনার মিঞা মুহাম্মদ আলি আকবার আজিজী ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) হাফিজ আহ্সান ফরিদ পদত্যাগ করেন।



