ছবি : সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল ও ইরানের চলমান যুদ্ধের প্রভাবে বৈশ্বিক বাজারে তেলের দাম বাড়তে পারে—এমন আশঙ্কায় রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে হঠাৎ করে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সংকট দেখা দিয়েছে। খুচরা বাজারে সরকার নির্ধারিত দামে তেল বিক্রি হলেও সরবরাহ কমে যাওয়ায় অনেক ক্রেতা প্রয়োজনের তুলনায় বেশি কিনছেন। এতে বাজারে চাপ আরও বেড়েছে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা।
শেওড়াপাড়া, মোহাম্মদপুর, বাড্ডা, শাহজাদপুর, দক্ষিণ বনশ্রী ও মেরাদিয়া বাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় পাঁচ লিটারের সয়াবিন তেলের বোতল পাওয়া যাচ্ছে না। কোথাও সীমিত পরিমাণে এক বা দুই লিটারের বোতল মিললেও অনেক দোকানে সেটিও নেই। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে সরবরাহ কমে যাওয়ায় এ সংকট তৈরি হয়েছে।
কারওয়ান বাজার ও মগবাজারের বিক্রেতারা জানান, আগে যেখানে ডিলাররা চার–পাঁচ কার্টন তেল সরবরাহ করতেন, এখন তা এক–দুই কার্টনে নেমে এসেছে। ডিলার পর্যায়ে দামও কিছুটা বেড়েছে। পাঁচ লিটারের বোতলের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য (এমআরপি) ৯৫৫ টাকা হলেও আগে এটি ৯৩০ টাকায় পাওয়া যেত, বর্তমানে অনেক দোকানদারকে ৯৫০ টাকা পর্যন্ত দিয়ে কিনতে হচ্ছে।
বোতলজাত তেলের সংকটের মধ্যে খোলা সয়াবিন ও পাম তেলের দামও বেড়েছে। গত চার দিনে খোলা সয়াবিন তেলের দাম কেজিতে প্রায় পাঁচ টাকা বেড়ে ১৯৮–২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। খোলা পাম তেলের দামও বেড়ে কেজিতে প্রায় ১৭০ টাকায় পৌঁছেছে।
তবে বড় তেল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো সরবরাহ সংকটের অভিযোগ অস্বীকার করেছে। মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ জানিয়েছে, তারা নিয়মিত উৎপাদন ও সরবরাহ করছে এবং রমজানকে সামনে রেখে অতিরিক্ত আমদানিও করা হয়েছে। সিটি গ্রুপও জানিয়েছে, তাদের সরবরাহ কমেনি, তবে এলসি–সংক্রান্ত জটিলতার কারণে কিছু ছোট কোম্পানি আমদানি করতে পারছে না।
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ফারুক আহম্মেদ জানিয়েছেন, বাজারে সরবরাহ সংকটের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।



