ছবি : সংগৃহীত
শুরু হলো মহান স্বাধীনতার মাস মার্চ— আমাদের জাতীয় জীবনের গৌরব, বেদনা ও অদম্য প্রত্যয়ের এক অনন্য অধ্যায়। এই মাস এলেই ফিরে আসে দীর্ঘ বঞ্চনার ইতিহাস, সংগ্রামের উত্তাল দিনগুলো এবং আত্মত্যাগে রঞ্জিত মুক্তিযুদ্ধের মহাকাব্য। স্বাধীনতা হঠাৎ করে অর্জিত হয়নি; এর পেছনে রয়েছে রক্তঝরা পথচলা, অবিরাম আন্দোলন এবং জাতিসত্তার স্বীকৃতির জন্য অদম্য লড়াই।
১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ শাসনের অবসান ঘটলেও পূর্ববাংলার মানুষের ভাগ্যে প্রকৃত মুক্তি আসেনি। পাকিস্তান রাষ্ট্রের অংশ হয়েও বাঙালিরা বৈষম্যের শিকার হয়। রাজনৈতিক ক্ষমতা, প্রশাসন, সামরিক বাহিনী ও অর্থনীতিতে পশ্চিম পাকিস্তানের একচ্ছত্র আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত হয়। রাষ্ট্রভাষা হিসেবে উর্দু চাপিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত বাঙালির আত্মপরিচয়ের ওপর সরাসরি আঘাত হানে। এর প্রতিবাদে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন বাঙালির প্রথম সুসংগঠিত প্রতিরোধ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।
পরবর্তী সময়ে যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, শিক্ষা আন্দোলন এবং বঙ্গবন্ধুর ছয় দফা কর্মসূচি বাঙালির স্বায়ত্তশাসনের দাবিকে সুসংহত করে। ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান পাকিস্তানি সামরিক শাসনের ভিত কাঁপিয়ে দেয়। ১৯৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করলেও ক্ষমতা হস্তান্তরে গড়িমসি শুরু হয়। ক্ষুব্ধ বাঙালি ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণে স্বাধীনতার সংগ্রামের ডাক পান।
অবশেষে ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি সেনারা ‘অপারেশন সার্চলাইট’ চালিয়ে নির্বিচারে হত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞ চালায়। ২৬ মার্চ স্বাধীনতার ঘোষণা ছড়িয়ে পড়ে সর্বত্র। মুক্তিযোদ্ধারা সংগঠিত হয়ে নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে অংশ নেন। ৩০ লাখ শহীদের আত্মদান ও দুই লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমহানির বেদনার মধ্য দিয়ে জন্ম নেয় স্বাধীন বাংলাদেশ। ১৬ ডিসেম্বর বিজয়ের মধ্য দিয়ে দখলদার বাহিনী আত্মসমর্পণ করে।
স্বাধীনতার মাস মার্চ কেবল অতীতের স্মৃতিচারণ নয়; এটি আমাদের আত্মপরিচয়ের শিকড়। এই মাস শেখায়— অন্যায় ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধই জাতির মুক্তির পথ। স্বাধীনতা মানে শুধু ভূখণ্ডের মুক্তি নয়; এটি ন্যায়, সাম্য, গণতন্ত্র ও মানবিক মর্যাদার অঙ্গীকার।



