পিলখানার হত্যাকাণ্ড ছিল সার্বভৌমত্ব নস্যাৎ করার অপপ্রয়াস: প্রধানমন্ত্রী
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৯:৫৫ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
পিলখানায় সেনা কর্মকর্তাদের হত্যাকাণ্ডকে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব নস্যাৎ করার একটি অপপ্রয়াস হিসেবে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে জাতীয় শহীদ সেনা দিবস উপলক্ষে ঢাকা সেনানিবাসে শহীদ পরিবারের সঙ্গে মতবিনিময় সভা ও ইফতার মাহফিলে তিনি এ মন্তব্য করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেনাবাহিনী দেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ ও স্বাধীনতা-পরবর্তী রাষ্ট্র গঠনে গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা রেখেছে। সেনাবাহিনী আমাদের সার্বভৌমত্বের প্রতীক। পিলখানার মর্মান্তিক ঘটনা জাতীয় নিরাপত্তা কাঠামোর দুর্বলতা প্রকাশ করেছে। তাই আধুনিক ও শক্তিশালী নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রয়োজন রয়েছে। শহীদ পরিবারের সন্তানদের শিক্ষা, চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের জন্য দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতিও তিনি দেন।
তিনি বলেন, ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারির হত্যাকাণ্ডে ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তা ও সর্বমোট ৭৪ জন প্রাণ হারান। প্রতিটি নাম একটি পরিবারের আলো নিভে যাওয়ার ইতিহাস। তিনি উল্লেখ করেন, শহীদদের স্মৃতিকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় স্মরণ করা জাতীয় দায়িত্ব। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে দায়বদ্ধতা রাখতে সরকার সেনাবাহিনী ও শহীদ পরিবারের সঙ্গে আলোচনা করে এ স্মৃতিকে অম্লান রাখবে।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, সীমান্তরক্ষী বাহিনী মুক্তিযুদ্ধের সূচনালগ্ন থেকে সেনাবাহিনীর সঙ্গে অবিস্মরণীয় অবদান রেখেছে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এ বাহিনীকে সুসংহত করতে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছিলেন। বর্তমান সরকারও সীমান্ত বাহিনীকে আধুনিক ও সুসংহত করার উদ্যোগ নেবে।
শহীদদের আত্মার শান্তি কামনা করে তিনি বলেন, মাহে রমজান আমাদের সংযম ও আত্মশুদ্ধির শিক্ষা দেয়। মহান আল্লাহ যেন শহীদদের আত্মাকে শান্তিতে রাখেন এবং তাঁদের পরিবারকে শক্তি ও ধৈর্য দান করেন।
অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকীসহ শহীদ পরিবারের সদস্যরা বক্তব্য রাখেন। এছাড়া নৌবাহিনী প্রধান, বিমানবাহিনী প্রধান, প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ও মুখ্য সচিবসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান ও কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমানকে সঙ্গে নিয়ে শহীদ পরিবারের সঙ্গে ইফতার করেন।



