ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে জনস্রোত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৯:৪৭ এএম
অমর একুশে ফেব্রুয়ারি মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ আজ পরিণত হয়েছে শ্রদ্ধা, শোক ও গৌরবের মিলনমেলায়। ভাষা আন্দোলনের বীর শহীদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানাতে সর্বস্তরের মানুষের ঢল নেমেছে শহীদ মিনারে।
শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকেই বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নেতাকর্মী ও শিক্ষার্থীরা পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে ভাষা শহীদদের স্মরণ করছেন। প্রভাতফেরির পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।
এর আগে একুশের প্রথম প্রহরে রাত ১২টা ১ মিনিটে রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। রাত ১২টা ৮ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এ সময় মন্ত্রিসভার সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর পর বিএনপি ও জিয়া পরিবারের পক্ষ থেকেও পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়।
এরপর সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে ১১-দলীয় জোটের নেতারা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। এ সময় বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামসহ জোটের সংসদ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
পর্যায়ক্রমে শ্রদ্ধা জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গনি। আপিল বিভাগের বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বে বিচারপতিরাও পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। তিন বাহিনীর পক্ষ থেকে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ নাজমুল হাসান এবং বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে উপাচার্য অধ্যাপক নিয়াজ আহমেদ খান শহীদদের প্রতি সম্মান জানান।
রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), গণঅধিকার পরিষদ, এনডিএম, এবি পার্টি, জাতীয় পার্টি, বিজেপি, জেপি, সিপিবি, বাসদ, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, জাসদ, জেএসডিসহ বিভিন্ন সংগঠন পুষ্পস্তবক অর্পণ করে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন। ছাত্রদল, ছাত্র ইউনিয়ন, ছাত্রফ্রন্ট ও ছাত্রমৈত্রীর নেতারা ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়সহ রাজধানীর বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা শহীদ মিনারে আসেন। এছাড়া জুলাই ঐক্য, প্রথম আলো বন্ধুসভা ও জুলাই মঞ্চের পক্ষ থেকেও শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।
অমর একুশে আজও প্রমাণ করে, ভাষার জন্য দেওয়া সেই আত্মত্যাগ সময়ের দেয়ালে ঝুলে থাকা কোনো স্মৃতি নয়; এটি বাঙালির আত্মপরিচয়ের শেকড়, যা প্রতি বছর নতুন প্রজন্মের পদধ্বনিতে আবারও জীবন্ত হয়ে ওঠে।



