Logo
Logo
×

জাতীয়

বিনম্র শ্রদ্ধায় অমর একুশে

মহান শহীদ ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস আজ

Icon

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৯:৪০ এএম

মহান শহীদ ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস আজ

রক্তস্নাত ঐতিহাসিক ২১ ফেব্রুয়ারি আজ। মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। পলাশ-শিমুলে আগুনরঙা এই দিনে বাঙালি জাতি বিনম্র শ্রদ্ধায় স্মরণ করছে সেইসব বীর সন্তানদের, যারা ১৯৫২ সালের এই দিনে মাতৃভাষা বাংলার মর্যাদা রক্ষায় অকাতরে প্রাণ উৎসর্গ করেছিলেন। আজও সমবেত কণ্ঠে উচ্চারিত হয় সেই অমর পঙ্‌ক্তি— ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি?’

বায়ান্নর উত্তাল দিনে রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে রাজপথে নামা ছাত্রদের ওপর তৎকালীন পুলিশের নির্বিচার গুলিবর্ষণে রচিত হয় এক অনন্য ইতিহাস। সেই আত্মত্যাগের ৭৪ বছর পূর্ণ হলো আজ। সালাম, বরকত, রফিক, শফিউর ও জব্বারসহ অগণিত নাম না জানা শহীদের রক্তে অর্জিত হয়েছে আমাদের মায়ের ভাষার অধিকার। তাদের এই ত্যাগ বিশ্বমানবতার কাছেও স্বীকৃত— ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর ইউনেস্কোর প্যারিস অধিবেশনে একুশে ফেব্রুয়ারিকে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ ঘোষণা করা হয়। ২০০০ সাল থেকে দিনটি বিশ্বজুড়ে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হচ্ছে।

একুশের প্রথম প্রহর রাত ১২টা ১ মিনিটে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে দিবসের কর্মসূচি শুরু হয়। অমর একুশে উপলক্ষে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে নেওয়া হয়েছে নানা কর্মসূচি। রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো কালো ব্যাজ ধারণ, প্রভাতফেরি ও আলোচনা সভার আয়োজন করেছে।

বাঙালি জাতির জন্য দিনটি একই সঙ্গে শোক ও গৌরবের। মাতৃভাষার জন্য প্রাণদানের এমন নজির বিশ্ব ইতিহাসে বিরল। জাতি আজ গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে ভাষা শহীদদের স্মরণ করার পাশাপাশি বাংলা ভাষার শুদ্ধ চর্চা ও মর্যাদা সমুন্নত রাখার অঙ্গীকার করছে।

দিবসটি উপলক্ষে আজ সরকারি ছুটি। দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়েছে। উত্তোলন করা হয়েছে কালো পতাকা। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পৃথক বাণীতে ভাষা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়েছেন।

১৯৪৭ সালের নভেম্বর-ডিসেম্বর থেকে তৎকালীন পূর্ব বাংলার রাজধানী ঢাকায় ভাষা-প্রশ্নে অসন্তোষ শুরু হয়। ১৯৪৮ সালের মার্চে তা আন্দোলনের রূপ নেয়। এর চূড়ান্ত প্রকাশ ঘটে ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি। সেদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে রাজপথে নামলে পুলিশ গুলি চালায়। কয়েকজন ছাত্র শহীদ হন।

ঘটনার প্রতিবাদে ২২ ফেব্রুয়ারি ছাত্র-জনতা আবারও রাজপথে নামে। মেডিকেল কলেজ হোস্টেল প্রাঙ্গণে শহীদদের গায়েবি জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। ২৩ ফেব্রুয়ারি এক রাতের মধ্যে সেখানে গড়ে ওঠে একটি স্মৃতিস্তম্ভ, যা ২৬ ফেব্রুয়ারি সরকার ভেঙে দেয়। কিন্তু আন্দোলন থামেনি। বরং তা আরও বেগবান হয়।

১৯৫৪ সালের প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট জয়লাভের পর ৭ মে গণপরিষদে বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। ১৯৫৬ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি সংবিধানে সংশোধনের মাধ্যমে বাংলাকে পাকিস্তানের দ্বিতীয় রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। পরবর্তীতে ১৯৮৭ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদে ‘বাংলা ভাষা প্রচলন বিল’ পাস হয় এবং ৮ মার্চ থেকে তা কার্যকর করা হয়।

একুশকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয় ১৯৯৮ সালে। কানাডার ভ্যাঙ্কুভারে বসবাসরত দুই প্রবাসী বাঙালি রফিকুল ইসলাম ও আব্দুস সালাম জাতিসংঘের তৎকালীন মহাসচিব কফি আনানের কাছে এ দাবিতে আবেদন জানান। পরে বিভিন্ন দেশের সমর্থন আদায়ে উদ্যোগ নেওয়া হয়।

১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর ইউনেস্কোর সাধারণ সম্মেলনে প্রস্তাবটি উত্থাপিত হলে ১৮৮টি দেশ সমর্থন জানায়। এর মধ্য দিয়ে একুশে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি পায়। ২০১০ সালের ২১ অক্টোবর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৬৫তম অধিবেশনে প্রতিবছর ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন করার প্রস্তাব সর্বসম্মতভাবে গৃহীত হয়।

রক্তে লেখা একুশ আজ কেবল একটি তারিখ নয়। এটি ভাষার অধিকার, আত্মপরিচয় ও সাংস্কৃতিক মর্যাদার প্রতীক। শহীদদের আত্মত্যাগ আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়— ভাষা শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়, এটি একটি জাতির আত্মা।

Swapno

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher

Major(Rtd)Humayan Kabir Ripon

Managing Editor

Email: [email protected]

অনুসরণ করুন