Logo
Logo
×

জাতীয়

বললেন ইইউ পর্যবেক্ষকরা

‘বিশ্বাসযোগ্য ও প্রতিযোগিতামূলক’ নির্বাচন হয়েছে

Icon

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০১:৩৬ পিএম

‘বিশ্বাসযোগ্য ও প্রতিযোগিতামূলক’ নির্বাচন হয়েছে

বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ইউরোপীয় ইউনিয়নের নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের দৃষ্টি অনুযায়ী বিশ্বাসযোগ্য ও দক্ষতার সঙ্গে পরিচালিত হয়েছে। তবে নারীর স্বল্পতা, বিচ্ছিন্ন রাজনৈতিক সহিংসতা, অনলাইনে বিভ্রান্তিমূলক প্রচারণা এবং কিছু প্রক্রিয়াগত সীমাবদ্ধতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।

শনিবার ১৪ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল-এ আয়োজিত ব্রিফিংয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের প্রধান ইভার্স ইজাবস এ মূল্যায়ন তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, ২০০৮ সালের পর প্রথমবারের মতো অংশগ্রহণমূলক এবং প্রতিযোগিতামূলক এই নির্বাচন নবায়নকৃত আইনি কাঠামোর অধীনে অনুষ্ঠিত হয়েছে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে নির্বাচন অনেকাংশে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং মৌলিক স্বাধীনতা মোটামুটি গ্রহণযোগ্য হয়েছে। তবে স্থানীয় কিছু রাজনৈতিক সহিংসতা এবং অনলাইন বিভ্রান্তিমূলক প্রচারণা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। নারীদের সীমিত রাজনৈতিক পরিসরও অংশগ্রহণে বাধা সৃষ্টি করেছে।

ইভার্স ইজাবস জানান, নির্বাচন কমিশন স্বাধীন ও স্বচ্ছভাবে কাজ করেছে। তবে আইনি নিশ্চয়তা ও জবাবদিহিতা আরও শক্তিশালী করার প্রয়োজন রয়েছে। নির্বাচনী প্রস্তুতি পেশাদারিত্বের সঙ্গে সম্পন্ন হয়েছে, বিদেশে থাকা প্রায় ৭ লাখ ৭০ হাজার ভোটার ডাকযোগে ভোট দিয়েছেন, এবং ৮ লাখ ৫০ হাজারের বেশি নির্বাচনকর্মী প্রশিক্ষণ পেয়েছেন। ভোটকেন্দ্রের অধিকাংশই প্রতিবন্ধী ও সীমিত চলাচলক্ষম ভোটারের জন্য সহজ প্রবেশযোগ্য ছিল না।

ভোট গণনা ও ফল সংকলন মোটামুটি দক্ষতার সঙ্গে হলেও কিছু ক্ষেত্রে স্বচ্ছতার ঘাটতি দেখা গেছে। তবে দলীয় এজেন্টদের উপস্থিতি ও নিয়মিত ফল প্রকাশ জনআস্থা বাড়াতে সহায়ক হয়েছে।

নির্বাচনে প্রার্থী মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় ৬০০-এর বেশি আপিল নিষ্পত্তি এবং প্রার্থীর পুনর্বহাল ইতিবাচক দিক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। নির্বাচনে দুই হাজারের বেশি প্রার্থী অংশ নেওয়ায় ভোটারদের জন্য বিস্তৃত রাজনৈতিক বিকল্প ছিল।

নারীর অংশগ্রহণ মাত্র ৪ শতাংশ হওয়াকে বড় হতাশা হিসেবে উল্লেখ করেছেন ইজাবস। পিতৃতন্ত্র, বৈষম্য, অনলাইন হয়রানি ও চরিত্রহনন নারী প্রার্থীর অংশগ্রহণে বড় বাধা সৃষ্টি করেছে। আদিবাসী ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বও সীমিত ছিল।

ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে অন্তত ৫৬টি সহিংস ঘটনার খবর পাওয়া গেছে, যার মধ্যে শতাধিক হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। নারীদের বিরুদ্ধে হয়রানি ও সম্পত্তিতে হামলার ঘটনাও ছিল।

অনলাইন প্রচারণায় অন্তত ৩০টি বিভ্রান্তিমূলক তথ্য শনাক্ত হয়েছে, যার মধ্যে অনেকের ভিউ ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ১০ লাখের বেশি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মের প্রতিক্রিয়া ধীর ছিল। গণমাধ্যম সংস্কার অসম্পূর্ণ থাকায় বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদনের পরিসর সীমিত ছিল।

নাগরিক সমাজের ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি বলেন, ৮১টি নাগরিক পর্যবেক্ষক দল নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করেছে এবং তরুণ কর্মীরা দেশজুড়ে ভোটার শিক্ষামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে গণতান্ত্রিক চর্চায় ইতিবাচক ভূমিকা রেখেছে।

Swapno

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher

Major(Rtd)Humayan Kabir Ripon

Managing Editor

Email: [email protected]

অনুসরণ করুন