গণতন্ত্রের ট্রেনে উঠেছে বাংলাদেশ: সিইসি
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১:২৫ এএম
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ ‘গণতন্ত্রের ট্রেনে উঠে গেছে’ বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন।
বৃহস্পতিবার সকাল পৌনে ১০টায় রাজধানীর ইস্কাটন গার্ডেন উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। সিইসি বলেন, আমি অত্যন্ত আনন্দিত। আজকে গণতন্ত্রায়নের ট্রেনে উঠে গেছি, ইনশাল্লাহ। আমি ওয়াদা করেছিলাম, ফেস্টিভ মুডে আমরা একটা ইলেকশন জাতিকে উপহার দেব।
তিনি বলেন, গত কয়েক দিনে ঈদুল ফিতর বা ঈদুল আজহার মতোই মানুষ ট্রেন, বাস ও লঞ্চে করে গ্রামেগঞ্জে ছুটে গেছেন। আমি আমার নিজের গ্রামে এবং বিভিন্ন জায়গায় কথা বলেছি। মানুষ উৎসবের আনন্দে মেতে উঠেছে। অনেকদিন পরে ভোটের একটা আমেজ সৃষ্টি হয়েছে, যোগ করেন তিনি।
সিইসি বলেন, সবাই ভোট দিতে পারবে—এই বিশ্বাস ও আনন্দ মানুষকে উদ্বেলিত করছে। নির্বাচন কমিশনের প্রতিশ্রুতির প্রসঙ্গ তুলে তিনি জানান, ২০২৪ সালের নভেম্বর দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই একটি সুষ্ঠু, সুন্দর ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন উপহার দিতে কমিশন নিরলস প্রস্তুতি নিয়েছে।
তিনি বলেন, এ দেশে আর কোনো পাতানো নির্বাচন হবে না। আমরা সুষ্ঠু, সুন্দর ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পক্ষে। কারও পক্ষে না, আবার কারও বিপক্ষেও না।
ঠাকুরগাঁওয়ের একটি কেন্দ্রের উদাহরণ দিয়ে সিইসি বলেন, সেখানে বিএনপি ও জামায়াতের দুই নেতা পাশাপাশি দাঁড়িয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে হাসিমুখে কথা বলেছেন। এটাই তো গণতন্ত্রের সৌন্দর্য, মন্তব্য করেন তিনি।
সিইসি আরও বলেন, আমরা চাই বাংলাদেশ যে গণতন্ত্রের ট্রেনে উঠেছে, এই ট্রেন ইনশাল্লাহ গন্তব্যে পৌঁছাবে আপনাদের সবার সহযোগিতায়। তিনি উল্লেখ করেন, ২০২৬ সালে বিশ্বে সবচেয়ে বড় নির্বাচনের আয়োজন করছে বাংলাদেশ এবং চলতি বছরে এত বড় নির্বাচন আর কোথাও হয়নি বলেও দাবি করেন।
বিদেশি সাংবাদিক ও নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের সঙ্গে বৈঠকের প্রসঙ্গে তিনি জানান, বিভিন্ন দেশের প্রধান নির্বাচন কমিশনাররা বাংলাদেশের প্রস্তুতি দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তার ভাষ্য, প্রায় ১৭ লাখ মানুষ এ নির্বাচনের কাজে যুক্ত আছেন—এর মধ্যে সাড়ে ৯ লাখ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য এবং প্রায় ৮ লাখ পোলিং কর্মকর্তা।
তিনি বলেন, এত বিপুলসংখ্যক জনবলকে প্রশিক্ষণ দিয়ে সমন্বয়ের মাধ্যমে নির্বাচন পরিচালনা করা একটি বড় কর্মযজ্ঞ। এর চেয়ে বড় কোঅর্ডিনেশনের কাজ আর নেই, মন্তব্য করেন তিনি।
সবশেষে সিইসি আশা প্রকাশ করে বলেন, এখন পর্যন্ত সব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা গেছে এবং সামনে যেসব চ্যালেঞ্জ আসবে, সেগুলোও সবার সহযোগিতায় মোকাবিলা করা সম্ভব হবে। বাংলাদেশ গণতন্ত্রের পথে রওনা দিয়েছে। গণতন্ত্রের ট্রেন ইনশাল্লাহ স্টেশনে পৌঁছাবে, বলেন তিনি।



