ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের দিন কিছু সেবার ওপর কড়াকড়ি আরোপ করেছে সরকার। মোটরসাইকেলসহ পাঁচ ধরনের যান চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস বা এমএফএস (বিকাশ, নগদ, রকেট ইত্যাদি) লেনদেন সীমিত রাখা হয়েছে। তবে রাজধানীতে মেট্রোরেল চলাচল স্বাভাবিক থাকবে। সরকার জানিয়েছে, ভোটকে প্রভাবমুক্ত, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার উদ্দেশ্যে এসব নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
ভোট উপলক্ষে আজ বুধবার ও আগামীকাল ঢাকাসহ সারা দেশে বড় বড় দোকান, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান এবং শপিং মল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ দোকান ব্যবসায়ী মালিক সমিতি। নির্বাচনী এলাকায় বহিরাগতদের অবস্থানের ওপর নির্বাচন কমিশনের (ইসি) নিষেধাজ্ঞা থাকায় পর্যটন ব্যবসায়ীরাও ভোটের দিন পর্যটনকেন্দ্রগুলো বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
বন্ধ পাঁচ যানবাহন, সচল মেট্রোরেল
ভোটের দিন সারা দেশে যানবাহন চলাচলের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে সরকার। এ বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশনা দিয়েছে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ ও নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ইসি জানিয়েছে, আজ বুধবার রাত ১২টা থেকে ভোট গ্রহণের দিন (বৃহস্পতিবার) মধ্যরাত ১২টা পর্যন্ত সারা দেশে মোটরসাইকেল, ট্যাক্সিক্যাব, পিকআপ, মাইক্রোবাস ও ট্রাক চলাচল বন্ধ থাকবে। তবে ভোটাররা ভোট দেওয়ার উদ্দেশ্যে ব্যক্তিগত গাড়ি (কার) ব্যবহার করতে পারবেন। নির্বাচনের দিন মেট্রোরেলও স্বাভাবিকভাবে চলবে বলে জানিয়েছে ইসি।
এদিকে গতকাল রাত ১২টা থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা পর্যন্ত টানা ৭২ ঘণ্টা সারা দেশে মোটরসাইকেল চলাচল সম্পূর্ণভাবে বন্ধ থাকবে। তবে ইসির স্টিকারযুক্ত মোটরসাইকেল এই নিষেধাজ্ঞার আওতামুক্ত থাকবে। নির্বাচন-সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম ও জরুরি প্রয়োজনের কথা বিবেচনায় কিছু ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সশস্ত্র বাহিনী, প্রশাসন এবং অনুমোদিত নির্বাচন পর্যবেক্ষকেরা এই নিষেধাজ্ঞার বাইরে থাকবেন।
একই সঙ্গে জরুরি সেবা, ওষুধ ও চিকিৎসা সামগ্রী পরিবহন, প্রয়োজনীয় দ্রব্য সরবরাহ এবং সংবাদপত্র বহনকারী যানবাহন চলাচল করতে পারবে। বিদেশগামী ও বিদেশফেরত যাত্রীদের ক্ষেত্রেও বিশেষ ছাড় রাখা হয়েছে। পাসপোর্ট, টিকিটসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রদর্শন সাপেক্ষে বিমানবন্দর যাতায়াতে কোনো বাধা থাকবে না। পাশাপাশি দূরপাল্লার যাত্রীবাহী পরিবহন এবং প্রয়োজনীয় স্থানীয় চলাচলেও শিথিলতা থাকবে।
নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রার্থী ও তাদের এজেন্টদের জন্যও আলাদা সুবিধা নির্ধারণ করা হয়েছে। রিটার্নিং কর্মকর্তার অনুমতি ও নির্ধারিত স্টিকার প্রদর্শনের শর্তে প্রার্থী ও এজেন্টরা একটি করে ছোট যান জিপ, কার বা মাইক্রোবাস ব্যবহার করতে পারবেন।
এ ছাড়া সাংবাদিক ও নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের ক্ষেত্রেও অনুমোদন সাপেক্ষে যানবাহন বা মোটরসাইকেল ব্যবহারের সুযোগ থাকবে। নির্বাচন পরিচালনায় দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যানবাহন এই বিধিনিষেধের আওতামুক্ত থাকবে। টেলিযোগাযোগ সেবা স্বাভাবিক রাখতে বিটিআরসি লাইসেন্সপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের যানবাহনও জরুরি সেবার অন্তর্ভুক্ত হিসেবে চলাচল করতে পারবে।
এ ছাড়া রাজধানীতে ভোট গ্রহণের দিন ১২ ফেব্রুয়ারি মেট্রোরেল চলাচল স্বাভাবিক থাকবে। ভোটারদের যাতায়াতের সুবিধার্থে বাড়ানো হবে ট্রেনের সংখ্যা। গত রোববার ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (এমটিসিএল) পরিচালক (প্রশাসন) এ কে এম খায়রুল আলম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ১২ ফেব্রুয়ারি ভোট গ্রহণের দিন মেট্রোরেল চলাচল স্বাভাবিক থাকবে। ভোটারদের যাতায়াতের সুবিধার্থে ভোট চলাকালে স্বাভাবিক সময়সূচির বাইরে মেট্রো ট্রেনের সংখ্যা বৃদ্ধি করা হবে।
এমএফএস সেবায় কড়াকড়ি
এমএফএস (বিকাশ, নগদ, রকেট ইত্যাদি) লেনদেনে বিশেষ বিধিনিষেধ আরোপ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গত সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) রাত ১২টা থেকে এই নির্দেশনা কার্যকর হয়েছে। ১২ ফেব্রুয়ারি রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত বলবৎ থাকবে। টানা ৯৬ ঘণ্টা গ্রাহকেরা নির্দিষ্ট কিছু সেবা ব্যবহার করতে পারলেও ক্যাশ-ইন বা ক্যাশ-আউটের মতো গুরুত্বপূর্ণ সেবাগুলো বন্ধ থাকবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, নির্বাচনের সময় অবৈধ অর্থের প্রভাব কমানোর লক্ষ্যে সব ধরনের ব্যক্তিগত বা পারসোনাল অ্যাকাউন্ট থেকে ক্যাশ-ইন এবং ক্যাশ-আউট সেবা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। অর্থাৎ এ সময়ে কোনো এজেন্ট পয়েন্ট থেকে গ্রাহকেরা তাদের হিসাবে টাকা জমা দিতে বা নগদ টাকা উত্তোলন করতে পারবেন না।



