ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন
৪৮ ঘণ্টা আগে শেষ হলো প্রচার, ভোট ১২ ফেব্রুয়ারি
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০১:০৪ পিএম
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী প্রচার শেষ হয়েছে। ভোটগ্রহণের ৪৮ ঘণ্টা আগে মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টায় সব ধরনের নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা বন্ধ হয়। গত ২২ জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই প্রচার কার্যক্রম চলে টানা ২০ দিন।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার) একযোগে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। ওই দিন সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সে ব্যালট পেপারের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ হবে। দেশের ২৯৯টি সংসদীয় আসনে এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
এর আগে গত ২ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাত আনুমানিক ২টার দিকে জামায়াতে ইসলামীর শেরপুর জেলা শাখার সেক্রেটারি এবং শেরপুর–৩ (শ্রীবরদী–ঝিনাইগাতী) আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল (৫১) মৃত্যুবরণ করলে ওই আসনের নির্বাচন বাতিল করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী, ভোটগ্রহণ শুরুর ৪৮ ঘণ্টা আগে সব ধরনের নির্বাচনী প্রচার বন্ধ রাখার বিধান রয়েছে। ইসির রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা ২০২৫-এর ১৮ ধারায় বলা হয়েছে, কোনো নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল, তাদের মনোনীত প্রার্থী, স্বতন্ত্র প্রার্থী বা তাদের পক্ষে অন্য কেউ ভোটগ্রহণের নির্ধারিত দিনের তিন সপ্তাহের আগে প্রচার শুরু করতে পারবেন না এবং ভোটগ্রহণ শুরুর ৪৮ ঘণ্টা আগে প্রচারণা শেষ করতে হবে।
এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ জানান, আইন অনুযায়ী ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা থেকে রাজনৈতিক দলের সব ধরনের প্রচার-প্রচারণা বন্ধ হয়েছে।
নির্বাচন কমিশন সূত্র জানায়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মোট ৫১টি রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করছে। এবারের নির্বাচনে মোট প্রার্থী রয়েছেন ২ হাজার ৩৪ জন, যার মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী ২৭৫ জন। সারা দেশে ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ৪২ হাজার ৭৭৯টি।
এই নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ৩৬১ জন, নারী ভোটার ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ২০০ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ১ হাজার ২৩২ জন।
রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রার্থী দিয়েছে বিএনপি। দলটির প্রতীক ধানের শীষ নিয়ে ২৯১ জন প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ প্রার্থী দিয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, দলটির ২৫৮ জন প্রার্থী হাতপাখা প্রতীক নিয়ে লড়ছেন। জামায়াতে ইসলামীর ২২৯ জন প্রার্থী দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
এ ছাড়া জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে ১৯৮ জন, জাতীয় নাগরিক পার্টির শাপলা কলি প্রতীক নিয়ে ৩২ জন প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে ৭৬ জন ফুটবল প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।



