যমুনার সামনে থেকে আন্দোলনকারীদের সরিয়ে দিল পুলিশ
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০২:৩৫ পিএম
নবম পে-স্কেল ঘোষণার দাবিতে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনার সামনে অবস্থান নেওয়া সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর দফায় দফায় লাঠিচার্জ, টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করেছে পুলিশ। একপর্যায়ে পুলিশের অভিযানের মুখে আন্দোলনকারীরা যমুনা এলাকা ছেড়ে শাহবাগের দিকে সরে যেতে বাধ্য হন।
শুক্রবার দুপুর ১টার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ব্যাপক অভিযান চালায়। এ সময় কয়েকজন আন্দোলনকারীকে আটক করা হয় বলে জানা গেছে।
আন্দোলনকারী আব্দুল মালেক বলেন, তারা শান্তিপূর্ণভাবে ন্যায্য দাবি জানাতে যমুনার সামনে অবস্থান নিয়েছিলেন। কোনো আলোচনা ছাড়াই পুলিশের পক্ষ থেকে টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
আরেক আন্দোলনকারী শারমিন আক্তার বলেন, রাষ্ট্রের কর্মচারী হিসেবে এমন আচরণে তারা অপমানিত বোধ করছেন। দাবি জানাতে এসে এভাবে বলপ্রয়োগের মুখে পড়তে হবে, তা কল্পনাও করেননি বলে জানান তিনি।
এর আগে বেলা ১১টার দিকে আন্দোলনকারীরা ঘোষণা দিয়ে মিছিল নিয়ে যমুনার উদ্দেশে রওনা হন। শাহবাগ মোড়ে পৌঁছালে সেখানে প্রথম দফায় পুলিশি বাধার মুখে পড়েন তারা। ওই সময় বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন থাকলেও লাঠিচার্জ করা হয়নি। তবে জলকামান ব্যবহার করে আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করা হয়।
পরে পুলিশি বাধা উপেক্ষা করে আন্দোলনকারীরা হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড় হয়ে যমুনার সামনে পৌঁছে সড়কে বসে পড়েন এবং বিভিন্ন স্লোগান দেন। বেলা সাড়ে ১১টার পর সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। একই সঙ্গে বিজিবির সদস্যরাও ঘটনাস্থলে অবস্থান নেন।
পুলিশ প্রথমে আন্দোলনকারীদের শান্তিপূর্ণভাবে সরে যাওয়ার অনুরোধ জানালেও তারা তা প্রত্যাখ্যান করলে অভিযান শুরু করা হয়। আন্দোলনকারীদের সরিয়ে দিতে একাধিকবার জলকামান, সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করা হয়।
পুলিশি চাপের মুখে আন্দোলনকারীরা রমনা পার্কের ভেতরে ঢুকে পড়েন। সেখানে প্রায় এক ঘণ্টা ধরে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। দুপুর ১২টার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং কয়েকজন আন্দোলনকারী আহত হন বলে জানা গেছে।
দুপুর ১টার পর আন্দোলনকারীরা যমুনা এলাকা পুরোপুরি ছেড়ে শাহবাগের দিকে সরে যান। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে ৪ থেকে ৫ জন আন্দোলনকারীকে আটক করা হয়। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে নারায়ণগঞ্জ ও লক্ষ্মীপুর থেকে আসা সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও রয়েছেন বলে জানা গেছে।



