জামায়াত ক্ষমতায় আসলে একটা হিন্দুরও ভারতে যাওয়া লাগবে না: জামায়াত প্রার্থী কৃষ্ণ নন্দী
অনলাইন ডেস্ক :
প্রকাশ: ২৭ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:১১ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
দেশের কর জিডিপি অনুপাত কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে উন্নীত করা, অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা এবং অভ্যন্তরীণ ও বহির্বাণিজ্য সহায়ক করনীতি প্রণয়নের উদ্দেশ্যে কর কাঠামোর প্রয়োজনীয় পুনর্বিন্যাস বিষয়ে জাতীয় কমিটির সুপারিশসম্বলিত প্রতিবেদন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) বিকেলে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট (পিআরআই) বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ড. জায়েদী সাত্তার নেতৃত্বে ১১ সদস্যের জাতীয় টাস্কফোর্স প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসকে প্রতিবেদনটি হস্তান্তর করেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন: অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী, অর্থ বিভাগের সচিব ড. মো. খায়রুজ্জামান মজুমদার, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারক এবং অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সচিব মো. আবদুর রহমান খান। পাশাপাশি কমিটির অন্যান্য সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের বর্তমান কর কাঠামো জটিল, অদক্ষ এবং পরোক্ষ করের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল। এই কারণে দেশের কাঙ্ক্ষিত রাজস্ব আদায় এবং কর জিডিপি অনুপাত উন্নয়নের জন্য শুধু খণ্ডিত সংস্কারের নয়, মৌলিক ও কাঠামোগত সংস্কারের প্রয়োজন। প্রতিবেদনের শীর্ষকথা ছিল ‘উন্নয়নের জন্য করনীতি: কর ব্যবস্থার পুনর্গঠনে সংস্কারমূলক কর্মপরিকল্পনা’, যেখানে মোট ৫৫টি নীতিগত বিষয় চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রতিবেদনে অগ্রাধিকারভিত্তিক সাতটি নীতিগত বিষয়কে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের কর-জিডিপি অনুপাত ১০ শতাংশ থেকে ১২ শতাংশে উন্নীত করা এবং ২০৩৫ সালের মধ্যে এটি ১৫ থেকে ২০ শতাংশে উন্নীত করার রূপরেখা প্রস্তাব করা হয়েছে। এ ছাড়া প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ করের বর্তমান অনুপাত ৩০:৭০ থেকে ৫০:৫০-এ উন্নীত করার সুপারিশ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে কর ব্যবস্থায় ডিজিটালাইজেশন ও অটোমেশন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ঝুঁকি বিশ্লেষণ, সহজ ও সমন্বিত কর কাঠামো, কর প্রণোদনার পুনর্গঠন, ঝুঁকিভিত্তিক অডিট ব্যবস্থা এবং বাণিজ্যকর পরিবর্তে দেশীয় কর ব্যবস্থার দিকে কৌশলগত মনোযোগ দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া, শুল্ক কাঠামোর আধুনিকায়নে রপ্তানি ও আমদানি বিকল্প পণ্যের সুরক্ষা সমান করার বিষয়েও প্রতিবেদন উল্লেখ করেছে। পণ্য খালাসের জন্য আলাদা ভ্যালুয়েশন ডেটাবেজের প্রয়োজন নেই, বরং পোস্ট ক্লিয়ারেন্স অডিটের মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনার সুপারিশ করা হয়েছে। এ ছাড়া মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) ব্যবস্থায় বহু হারের পরিবর্তে একক হারের ব্যবহারের কথাও উল্লেখ রয়েছে।
প্রতিবেদন গ্রহণের পর প্রধান উপদেষ্টা বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের হাতে সময় সীমিত, তাই নীতিগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। তিনি আরও উল্লেখ করেন, এই নীতিগুলো প্রয়োগ হলে রাজস্ব আদায়ের পদ্ধতি আরও স্পষ্ট হবে এবং দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও রাজস্ব ব্যবস্থায় বড় ধরনের নীতিগত পরিবর্তন আসবে।
অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, প্রতিবেদনটি সরকারের জন্য কার্যকর একটি গাইডলাইন হিসেবে কাজ করবে এবং এর মাধ্যমে রাজস্ব আদায় বৃদ্ধির পাশাপাশি সুশাসন নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
কমিটির চেয়ারম্যান ড. জায়েদী সাত্তার বলেন, গত এক দশকে দেশের রাজস্ব আদায়ের পদ্ধতি অত্যন্ত জটিল হয়ে গেছে, যা সংস্কার ছাড়া পরিসর বৃদ্ধি করা কঠিন। তিনি আরও উল্লেখ করেন, এই সংস্কার দ্রুত বাস্তবায়ন হলে দেশের অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সচিব মো. আবদুর রহমান খান জানান, প্রতিবেদনে বিদ্যমান সংকটগুলো স্পষ্টভাবে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং তা সমাধানের প্রয়োজনীয় পথনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।



