Logo
Logo
×

জাতীয়

প্রবাসীদের মাধ্যমে বিদেশি বিনিয়োগ এলে দেওয়া হবে নগদ প্রণোদনা

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৬ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:১৫ পিএম

প্রবাসীদের মাধ্যমে বিদেশি বিনিয়োগ এলে দেওয়া হবে নগদ প্রণোদনা

প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) বাড়াতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের (এনআরবি) নগদ প্রণোদনা দেয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। প্রবাসীরা যদি দেশে এফডিআই আনতে সহায়তা করেন, তাহলে বিনিয়োগের একটি নির্দিষ্ট অংশ তারা নগদ প্রণোদনা হিসেবে পাবেন।

সোমবার (২৬ জানুয়ারি) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) গভর্নিং বোর্ডের এক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।

সভা শেষে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এক ব্রিফিংয়ে বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন জানান, নতুন এই উদ্যোগের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিস্তৃত নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে দেশে নতুন বিনিয়োগ আনার লক্ষ্য নেয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, অনুমোদিত প্রস্তাব অনুযায়ী কোনো প্রবাসী বাংলাদেশি যদি দেশে ইকুইটি বিনিয়োগ আনতে ভূমিকা রাখেন, তাহলে সেই বিনিয়োগের ওপর ১ দশমিক ২৫ শতাংশ নগদ প্রণোদনা পাবেন। এটি প্রবাসীদের জন্য একটি স্বীকৃতিস্বরূপ প্রণোদনা, যা প্রবাসী আয়ের বিদ্যমান ক্যাশ ইনসেনটিভ ব্যবস্থার মতোই কাজ করবে।

চৌধুরী আশিক মাহমুদ বলেন, ব্যক্তিগত ভোগের জন্য অর্থ পাঠানোর পরিবর্তে যারা শিল্প ও ব্যবসা খাতে বিনিয়োগ আনবেন, এই নীতির মাধ্যমে তাদের উৎসাহিত করা হবে। কোনো প্রবাসী যদি ১০ কোটি ডলারের ইকুইটি বিনিয়োগ আনতে সহায়তা করেন, তাহলে সরকার তাকে ১২ লাখ ৫০ হাজার ডলার প্রণোদনা দেবে।

এই উদ্যোগের পেছনে যুক্তি হিসেবে তিনি বলেন, প্রবাসী বাংলাদেশিরা তাদের বসবাসরত দেশগুলোর সমাজ ও বিনিয়োগ মহলে ভালোভাবে সংযুক্ত। সেই সংযোগ কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশকে বিনিয়োগের গন্তব্য হিসেবে তুলে ধরাই সরকারের লক্ষ্য।

নীতিগতভাবে অনুমোদন পেলেও এই প্রস্তাব বাস্তবায়নের আগে শেষ একটি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে বলে জানান তিনি। এ বিষয়ে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য প্রস্তাবটি অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।

বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে আরেকটি উদ্যোগের কথা জানিয়ে বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান বলেন, বিদেশে বিডার অফিস স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে চীনে অফিস খোলা হবে। এরপর দক্ষিণ কোরিয়া ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের একটি দেশে অফিস স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি জানান, এসব অফিসে স্থায়ী বেতনভিত্তিক নিয়োগের পরিবর্তে কমিশন বা পরিবর্তনশীল পারিশ্রমিক ব্যবস্থায় জনবল নিয়োগ দেওয়া হবে। বিনিয়োগ আনতে পারার সাফল্যের ওপর ভিত্তি করেই তাদের পারিশ্রমিক নির্ধারিত হবে। চীনের ক্ষেত্রে স্থানীয় ভাষা ও বাজার সম্পর্কে অভিজ্ঞ চীনা নাগরিকদের নিয়োগ দেওয়ার বিষয়ে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

চৌধুরী আশিক মাহমুদ আরও জানান, দেশের ছয়টি বিনিয়োগ উন্নয়ন সংস্থাকে একীভূত করে একটি একক কাঠামোর আওতায় আনার রোডম্যাপ অনুমোদন দিয়েছে সরকার। ‘সিঙ্গেল আমব্রেলা’ নামে পরিচিত এই ব্যবস্থার আওতায় বিডা, বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা), বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেপজা), হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষ, পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) কর্তৃপক্ষ এবং বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক)—এই ছয়টি সংস্থাকে একীভূত করা হবে।

তিনি বলেন, বর্তমানে প্রতিটি সংস্থার গভর্নিং বোর্ডের চেয়ারম্যানের দায়িত্বে সরকার প্রধান থাকায় প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি হয়। অতীতে এসব সংস্থার বোর্ড সভা গড়ে পাঁচ বছরে একবার অনুষ্ঠিত হয়েছে। একীভূত কাঠামোর মাধ্যমে নিয়মিত তদারকি ও দ্রুত সিদ্ধান্ত নিশ্চিত করা হবে। আদর্শভাবে ছয় মাস পরপর বোর্ড সভা হওয়া উচিত বলে মত দেন তিনি।

এ ক্ষেত্রে কোনো সংস্থাকে বাড়তি সুবিধা না দিতে স্বাধীন তৃতীয় পক্ষের পরামর্শক নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নীতিগত অনুমোদন মিললেও আইনগত ও কাঠামোগত বাস্তবায়নের কাজ পরবর্তী সরকারের সময়েই সম্পন্ন হবে বলে জানান তিনি। আপাতত নতুন সংস্থার নকশা ও কাঠামো তৈরির কাজই অগ্রাধিকার পাবে।

এ ছাড়া বিডার কার্যপরিধির আওতায় বেসরকারিকরণ প্রক্রিয়ার জন্য একটি আনুষ্ঠানিক নির্দেশনাও অনুমোদন দিয়েছে বোর্ড। আগে এ বিষয়ে নির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা না থাকলেও নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কমিশন ভিত্তিতে বিনিয়োগ ব্যাংক নিয়োগ দিয়ে সরকারি সম্পদ বেসরকারিকরণের পথ সুগম করা হবে বলে জানান বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান।

Swapno

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher

Major(Rtd)Humayan Kabir Ripon

Managing Editor

Email: [email protected]

অনুসরণ করুন