গণভোটে ‘হ্যাঁ’ প্রচারণায় আইনগত বাধা নেই: আলী রীয়াজ
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:২৫ এএম
ছবি : সংগৃহীত
আসন্ন গণভোটে ‘হ্যাঁ’ প্রচারণায় প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের সামনে কোনো আইনগত বাধা নেই বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (উপদেষ্টা পদমর্যাদা) অধ্যাপক আলী রীয়াজ। তিনি বলেন, এবারের গণভোট কোনো দলকে ক্ষমতায় বসানো বা ক্ষমতায় যেতে বাধা দেওয়ার এজেন্ডা নয়; বরং এটি জুলাই জাতীয় সনদভিত্তিক রাষ্ট্র সংস্কারের অংশ, যা বাংলাদেশের সকল মানুষের জন্য।
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর বিয়াম ফাউন্ডেশন মিলনায়তনে ঢাকা বিভাগীয় প্রশাসনের আয়োজনে বিভাগীয় কর্মকর্তা ও প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন ঢাকা বিভাগের কমিশনার শরফ উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (ঐকমত্য) মনির হায়দার, বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস এসোসিয়েশনের সভাপতি ও পূর্ত সচিব মো. নজরুল ইসলাম এবং ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি রেজাউল করিম মল্লিক।
প্রফেসর আলী রীয়াজ বলেন, সংবিধান বিশেষজ্ঞ, সাবেক বিচারপতি ও আইনজীবীদের সঙ্গে আলোচনায় একবাক্যে মত পাওয়া গেছে—গণভোটে ‘হ্যাঁ’ প্রচারণায় প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের ওপর কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। যারা এ বিষয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে, তারা ভিন্ন উদ্দেশ্যে তা করছে। তিনি আরও বলেন, ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ব্যক্তিতান্ত্রিক স্বৈরতন্ত্রের বিরুদ্ধে যারা সংগ্রাম করেছেন, প্রাণ দিয়েছেন, নির্যাতন সহ্য করেছেন, তারা আমাদের দায়িত্ব দিয়ে গেছেন—স্বৈরতন্ত্র যেন আর ফিরে না আসে এবং ভবিষ্যতের বাংলাদেশের পথনকশা তৈরি হয়।
তিনি উল্লেখ করেন, প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীরা একই সঙ্গে নাগরিকও। তাই রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ কাঠামো নির্ধারণে তাদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। সংবিধানের ২১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী জনগণের সেবায় সচেষ্ট থাকা এবং নাগরিকদের আইন মানা ও জাতীয় সম্পদ রক্ষার দায়িত্ব তাদের ওপর বর্তায়। সেই দায়িত্বের অংশ হিসেবে গণভোটে মানুষকে সচেতন করা ও ভোটদানে উদ্বুদ্ধ করাও নাগরিক কর্তব্য।
সভায় বক্তারা বলেন, দীর্ঘ সময় ভোট নিয়ে অনাস্থার কারণে গণভোট অনেকের কাছে নতুন অভিজ্ঞতা। তাই জনগণকে বোঝাতে হবে কীভাবে ব্যালটে ভোট দিতে হবে এবং ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোটের অর্থ কী। তারা জানান, গণভোটের ব্যালটে ‘টিক চিহ্ন’কে প্রচারণার প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করে ভোটারদের উদ্বুদ্ধ করতে হবে।
আলী রীয়াজ আরও বলেন, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার জুলাই-আগস্টের অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে তিনটি ম্যান্ডেট নিয়ে কাজ করছে—সংস্কার, বিচার ও নির্বাচন। নির্বাচন পরিচালনা করবে নির্বাচন কমিশন, সরকার শুধু পরিবেশ তৈরি করবে। একইভাবে বিচারও আদালত পরিচালনা করবে, সরকার নির্বিঘ্ন প্রক্রিয়া নিশ্চিত করবে।
অতীতে এক ব্যক্তির ইচ্ছায় সংবিধান সংশোধনের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, পঞ্চদশ সংশোধনী একক সিদ্ধান্তে তৈরি হয়েছিল। সংবিধান সংশোধন যেন আর ব্যক্তিগত ইচ্ছার খেলায় পরিণত না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে।
বিশেষ অতিথি মনির হায়দার বলেন, সংবিধান সংস্কার সম্পর্কিত ৪৮টি সুপারিশ গণভোটে চারটি ক্যাটাগরিতে আসছে। কার্যত প্রশ্নটি একটাই—আপনি কি জুলাই অভ্যুত্থানের পক্ষে, না বিপক্ষে? তিনি সতর্ক করে বলেন, গণভোট ব্যর্থ হলে ফ্যাসিবাদ আবার ফিরে আসবে, যা ভয়াবহ হতে পারে। এবার গণভোটের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের লক্ষ্য অর্জনের সুযোগ কাজে লাগাতে হবে।
সভায় ঢাকা বিভাগের জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার এবং বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।



