নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ নেই, বাংলাদেশে পূর্ণাঙ্গ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করবে ইইউ
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:৩৭ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট পর্যবেক্ষণে নিরাপত্তা সতর্কতার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছে না ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশন। শনিবার (১৭ জানুয়ারি) ঢাকার একটি হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মিশনের উপ-প্রধান পর্যবেক্ষক ইন্তা লাসে জানান, ইতোমধ্যে ৫৬ জন দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষক বাংলাদেশব্যাপী মোতায়েন করা হয়েছে এবং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এ সংখ্যা আরও বাড়ানো হবে।
নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমরা আশা করি আমাদের নিরাপত্তা নিয়ে কোনো উদ্বেগ তৈরি হবে না। আমাদের নিজস্ব নিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে যা আমরা অনুসরণ করি।” তিনি আরও জানান, মিশনের মূল লক্ষ্য হবে নির্বাচনী প্রক্রিয়া যাচাই করা এবং তা বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী হচ্ছে কিনা তা পর্যবেক্ষণ করা।
এর আগে সপ্তাহখানেক আগে ঢাকায় আয়োজিত আরেক সংবাদ সম্মেলনে ইইউ মিশন তাদের কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করে এবং নির্বাচনকে অন্তর্ভুক্তিমূলক ও অংশগ্রহণমূলক করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করে।
ইইউ পর্যবেক্ষণ মিশনের প্রধান ইভার্স ইইয়াবস বলেন, অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন মানে দেশের সকল নাগরিককে—বিশেষ করে নারী, ধর্মীয়-জাতিগত সংখ্যালঘু ও আঞ্চলিক গোষ্ঠীগুলিকে—অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া। তিনি আরও বলেন, অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনে বিশ্বাসযোগ্য ভোটার উপস্থিতি নিশ্চিত করা জরুরি, যাতে নাগরিকরা তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে পারে।
২০০৮ সালের পর এবারই প্রথম পূর্ণাঙ্গ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশন পাঠাচ্ছে ইইউ। এ মিশনে ২৭টি সদস্য রাষ্ট্র ছাড়াও কানাডা, নরওয়ে ও সুইজারল্যান্ডের প্রায় ২০০ জন পর্যবেক্ষক অংশ নেবেন। এর মধ্যে থাকবেন ঢাকাভিত্তিক ১১ জন বিশ্লেষক, ৫৬ জন দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষক এবং ভোটের আগে ৯০ জন স্বল্পমেয়াদি পর্যবেক্ষক। এছাড়া ইইউ সদস্য রাষ্ট্র ও অংশীদার দেশগুলোর কূটনৈতিক মিশনের প্রতিনিধিরাও পর্যবেক্ষণে যুক্ত থাকবেন।
ইন্তা লাসে জানান, দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষকরা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে গিয়ে ভোটার, নির্বাচন কর্মকর্তা, প্রার্থী ও রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যোগাযোগ করবেন এবং তাদের মতামত সংগ্রহ করবেন। নির্বাচনের দিন যুক্ত হবেন আরও ৯০ জন স্বল্পমেয়াদি পর্যবেক্ষক, যারা ভোটগ্রহণ, গণনা ও ফলাফল তালিকাভুক্তির প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করবেন।
নির্বাচনের পর ১৪ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ইইউ মিশন তাদের প্রাথমিক প্রতিবেদন প্রকাশ করবে। পরবর্তীতে সুপারিশসহ একটি চূড়ান্ত প্রতিবেদন তৈরি করে মিশনের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে।
তিনি আরও জানান, মিশনটি একটি আচরণবিধির অধীনে পরিচালিত হয়, যা নিরপেক্ষতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেয় এবং কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ থেকে বিরত থাকার বাধ্যবাধকতা আরোপ করে। ইইউ মিশন ২০০৫ সালের জাতিসংঘ অনুমোদিত আন্তর্জাতিক নির্বাচন পর্যবেক্ষণের নীতিমালা অনুযায়ী কাজ করছে।



