নির্বাচন পর্যবেক্ষণে বাংলাদেশে আসছে চীনের পর্যবেক্ষক দল
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪ জানুয়ারি ২০২৬, ০২:৩০ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য বাংলাদেশে দুজন অফিসিয়াল পর্যবেক্ষক পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে চীন। কূটনৈতিক পত্রের মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে দেশটির সরকার।
বিশ্বস্ত সূত্র জানিয়েছে, চীনের এ দুই পর্যবেক্ষক নির্বাচনের আগে বাংলাদেশে পৌঁছাবেন এবং ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া সরাসরি পর্যবেক্ষণ করবেন। ঢাকায় চীনা দূতাবাসের কর্মকর্তারা একটি টিমের মাধ্যমে তাদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করবেন।
চীনের এ সিদ্ধান্তকে দুই দেশের কৌশলগত, অর্থনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক সম্পর্কের ধারাবাহিকতা হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর আগে ২০২৪ সালের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চীন প্রথমবারের মতো তিনজন অফিসিয়াল পর্যবেক্ষক পাঠিয়েছিল। সে সময় পশ্চিমা দেশগুলো পূর্ণাঙ্গ মিশন না পাঠালেও চীন, রাশিয়া ও জাপান ছোট দল পাঠিয়ে নির্বাচনকে সমর্থন জানিয়েছিল। এবারও চীন ছোট কিন্তু অফিসিয়াল দল পাঠাচ্ছে।
চীনের পররাষ্ট্র নীতির মূল ভিত্তি হলো অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান সম্প্রতি বলেছেন, “বাংলাদেশের সাধারণ নির্বাচন বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়। চীন অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করে না। আমরা আশা করি, অন্তর্বর্তী সরকার ও বাংলাদেশের জনগণ নিজেদের বিষয় ভালোভাবে সামলাতে পারবে এবং সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।”
নির্বাচন কমিশনের গাইডলাইন অনুযায়ী বিদেশি পর্যবেক্ষকরা নির্বাচনের সব ধাপ—প্রাক-নির্বাচনী প্রস্তুতি, প্রচার, ভোটগ্রহণ, গণনা ও ফল ঘোষণা পর্যবেক্ষণ করতে পারবেন। এ জন্য ইসি ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে অ্যাক্রেডিটেশন প্রক্রিয়া চলছে।
চীন-বাংলাদেশ সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে এ সিদ্ধান্তকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হচ্ছে। বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (বিআরআই), অবকাঠামো প্রকল্প, ঋণ, বাণিজ্য ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতায় চীন বাংলাদেশের অন্যতম বড় অংশীদার। ২০২৪ সালের পর থেকে চীন বাংলাদেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়িয়েছে। বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ বিভিন্ন দলের সঙ্গে বৈঠক করেছে চীনের রাষ্ট্রদূত ও প্রতিনিধি দল। সর্বশেষ বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গেও বৈঠক করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, চীনের এ পর্যবেক্ষক পাঠানো মূলত কৌশলগত আগ্রহের অংশ, যাতে নির্বাচন-পরবর্তী সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক আরও দৃঢ় হয়। পাশাপাশি বাংলাদেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার নিশ্চিত করতে চীন এ নির্বাচনে ঘনিষ্ঠ নজর রাখছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ওবায়দুল হক বলেন, “চীন তাদের কূটনৈতিক আচরণে পরিবর্তন আনতে চাইছে, যাতে বিশ্ব রাজনীতির পরিবর্তিত গতিপথের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এগোতে পারে। বাংলাদেশের নির্বাচনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে তারা নিজেদের উপস্থিতি জোরদার করতে এবং নতুন সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক সুদৃঢ় করতে চাইছে।”
তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশে চীনের বিপুল বিনিয়োগ থাকায় তারা রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে নির্বাচনকে গুরুত্ব দিচ্ছে। এটি পশ্চিমা দেশগুলোর প্রতিও একটি বার্তা, কারণ ঐতিহ্যগতভাবে নির্বাচন পর্যবেক্ষণে পশ্চিমাদের প্রাধান্য থাকলেও চীন এখন সেখানে নিজেদের দৃশ্যমান করছে।”



