ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের দ্বিতীয় দিনে আরও ৪৩৩ জন প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল হয়েছে। গতকাল শনিবার সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তারা এসব মনোনয়নপত্র বাতিল করেন। বাতিল হওয়া প্রার্থীদের বড় অংশই স্বতন্ত্র প্রার্থী। বাকিরা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থী ও দলীয় বিদ্রোহী।
এ নিয়ে দুই দিনের যাচাই-বাছাইয়ে মোট পাঁচ শতাধিক প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হলো। যাচাইয়ের প্রথম দিন শুক্রবার শতাধিক প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছিল। আজ রোববার মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের শেষ দিন।
গতকাল বাতিল হওয়া উল্লেখযোগ্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্টের (এনডিএফ) সভাপতি ও জাতীয় পার্টির একাংশের চেয়ারম্যান আনিসুল ইসলাম মাহমুদ এবং ঢাকা-৯ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী তাসনিম জারা। এ ছাড়া ৩০ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র স্থগিত রাখা হয়েছে।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনে মোট ২ হাজার ৫৬৯ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেন। তাঁদের মধ্যে ৪৭৮ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী। যাঁদের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে, তারা ৫ থেকে ৯ জানুয়ারির মধ্যে নির্বাচন কমিশনে আপিল করতে পারবেন।
চট্টগ্রাম-৫ আসনে এনডিএফ সভাপতি আনিসুল ইসলাম মাহমুদের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয় দলীয় মনোনয়নপত্রের স্বাক্ষরের সঙ্গে নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া কাগজের স্বাক্ষরের অমিল থাকায়। ঢাকা-৯ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী তাসনিম জারার মনোনয়ন বাতিল হয় ১ শতাংশ ভোটারের সমর্থনসংক্রান্ত বিধি পূরণ না হওয়ায়।
ময়মনসিংহে ১১ জনের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। মামলার তথ্য গোপনের কারণে ময়মনসিংহ-৭ আসনে বিএনপির প্রার্থী ডা. মো. মাহাবুবুর রহমান লিটনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। মেহেরপুর-১ আসনে দলীয় মনোনয়ন না থাকায় বিএনপির তিন প্রার্থী এবং আয়কর তথ্যে গরমিল থাকায় এনসিপির এক প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হয়।
রাজশাহী, রংপুর, নোয়াখালী, গাইবান্ধা, লালমনিরহাট, মাগুরা, বগুড়া, খুলনা, ফরিদপুর, শেরপুর, সিরাজগঞ্জ, কক্সবাজার, খাগড়াছড়ি, কিশোরগঞ্জ, জামালপুর, দিনাজপুর, সাতক্ষীরা, মুন্সিগঞ্জ, নেত্রকোনা, ঝালকাঠি, পাবনা, বরিশাল, বরগুনা, গোপালগঞ্জ, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, পিরোজপুর, পঞ্চগড়, নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা, হবিগঞ্জ, নড়াইল, মাদারীপুর, মৌলভীবাজারসহ দেশের বিভিন্ন আসনে ব্যাপকসংখ্যক প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, হলফনামায় ত্রুটি, স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ১ শতাংশ ভোটার তালিকায় গরমিল, ঋণখেলাপি হওয়া, আয়কর ও সম্পদ বিবরণীতে অসংগতি, মামলার তথ্য গোপন, দলীয় মনোনয়নের কাগজপত্রে ত্রুটি, প্রস্তাবক অন্য আসনের ভোটার হওয়া, দ্বৈত নাগরিকত্বসংক্রান্ত জটিলতাসহ নানা কারণে এসব মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে।
যাদের প্রার্থিতা বৈধ
ঢাকার বিভিন্ন আসনে বিএনপি, এনসিপি, জামায়াত, খেলাফত মজলিস ও নাগরিক ঐক্যের কয়েকজন শীর্ষ নেতার মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছেন বিএনপির আমানউল্লাহ আমান, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, মির্জা আব্বাস, ববি হাজ্জাজ; জামায়াতে ইসলামীর আমির মো. শফিকুর রহমান এবং নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না।
৩০ জনের মনোনয়ন স্থগিত
যাচাইয়ের দ্বিতীয় দিনে মোট ৩০ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র স্থগিত রাখা হয়েছে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও তথ্য-উপাত্ত জমা দিলে আজ রোববার তাদের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।



