নির্বাচনে এআই ব্যবহার করে অপতথ্য মোকাবিলায় কৌশল নির্ধারণ করছি : সিইসি
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২১ অক্টোবর ২০২৫, ১১:৪০ এএম
আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে অপতথ্য ও বিভ্রান্তিমূলক প্রচারণা মোকাবিলায় কার্যকর কৌশল নির্ধারণকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) সকালে আগারগাঁওয়ের নির্বাচন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে (ইটিআই) নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় এআই অপব্যবহার প্রতিরোধ শীর্ষক এক সেমিনারে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন এ তথ্য জানান।
সেমিনারটি আয়োজন করে ইসির আওতাধীন আইডেনটিফিকেশন সিস্টেম ফর এনহ্যান্সিং একসেস টু সার্ভিসেস (আইডিইএ) প্রকল্প।
সিইসি বলেন, এআই একটি শক্তিশালী প্রযুক্তি—এটি যেমন একজন ডাক্তার ব্যবহার করতে পারেন, তেমনি একজন অপরাধীও ব্যবহার করতে পারে। তাই এর সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করাই এখন মূল চ্যালেঞ্জ। আসন্ন জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে এআইয়ের অপব্যবহার রোধে এটি নির্বাচনী প্রক্রিয়ার সঙ্গে একীভূত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আমরা সবাই মিলে একত্রে চিন্তা করলে আরও কার্যকর সমাধান পাওয়া সম্ভব। এই কর্মশালা সেই চিন্তা ও সহযোগিতার মাধ্যমে একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা তৈরির সুযোগ তৈরি করবে।
সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনার ওপর জোর দিয়ে সিইসি বলেন, শুধু নীতিগত নির্দেশনা নয়, বাস্তবায়নযোগ্য পদক্ষেপও দরকার। নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় এআইয়ের অপব্যবহার ঠেকাতে একটি শক্তিশালী অবকাঠামো গড়ে তুলতে হবে। এজন্য বিশেষজ্ঞ ও কর্মকর্তাদের কাছ থেকে বাস্তবসম্মত সুপারিশ চাওয়া হয়েছে।
তিনি নির্দেশ দেন, নির্বাচন চলাকালীন সময়ে—বিশেষ করে গভীর রাতে—ভুল বা মিথ্যা তথ্যের দ্রুত মোকাবিলায় গঠিত সেলকে ২৪ ঘণ্টা সক্রিয় থাকতে হবে। এজন্য প্রয়োজনীয় জনবল ও তাদের যোগ্যতা নির্ধারণে বিস্তারিত পরিকল্পনা তৈরি করতে হবে।
ফ্যাক্ট চেকিংয়ের গুরুত্ব তুলে ধরে সিইসি বলেন, তথ্য যাচাইয়ের পদ্ধতি, গতি ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর ভূমিকা স্পষ্ট করতে হবে। ফ্যাক্ট চেকিং টিমে কতজন সদস্য প্রয়োজন হবে, তারও একটি কাঠামো নির্ধারণ করতে হবে।
তিনি পাহাড়ি ও প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে মিথ্যা তথ্য ছড়ানোর ঝুঁকির কথাও উল্লেখ করেন। দুর্গম এলাকা বা উপকূলীয় দ্বীপ থেকে যদি অপতথ্য ছড়ায়, তাহলে সেগুলো দ্রুত সনাক্ত ও মোকাবিলা করতে হবে। এজন্য প্রত্যন্ত এলাকার সঙ্গে কেন্দ্রীয় সেলের সংযোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, বলেন সিইসি।
স্থানীয় পর্যায়ের সমন্বয়ের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রত্যন্ত অঞ্চলে কারা আমাদের হয়ে তথ্য সংগ্রহ ও যাচাইয়ে কাজ করবে, কীভাবে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখবে—এসব বিষয়ে সুস্পষ্ট পরামর্শ দিতে হবে।
সিইসি আশা প্রকাশ করেন, এ কর্মশালা থেকে পাওয়া সুপারিশগুলো আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে অপতথ্য মোকাবিলায় নির্বাচন কমিশনকে আরও শক্তিশালী ও কার্যকর ভূমিকা রাখতে সহায়তা করবে।



