বাংলাদেশ আর কখনো স্বৈরশাসনের পথে ফিরবে না: প্রধান উপদেষ্টা
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১০:০১ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮০তম অধিবেশনে শুক্রবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাতে ভাষণ দিয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, “বাংলাদেশ আর কখনো স্বৈরশাসনের পথে ফিরবে না। দলমত নির্বিশেষে গঠিত জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতেই গণতন্ত্র ও সংস্কার কার্যক্রম টেকসইভাবে এগিয়ে যাবে।”
তিনি জোর দিয়ে বলেন, জনগণের আত্মত্যাগে অর্জিত ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র কাঠামো পুনর্গঠনের প্রক্রিয়াকে কোনো শক্তিই আর বাধাগ্রস্ত করতে পারবে না।
ভাষণে ড. ইউনূস ১৯৭১ সালের রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মাধ্যমে বাংলাদেশের জন্ম এবং সেই সংগ্রামের মূল চেতনা—সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার—বারবার বাধাগ্রস্ত হওয়ার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, জনগণ বারবার সেই অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠায় আত্মত্যাগ করেছে।
তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, চলতি বছর ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান’-এর প্রথম বার্ষিকী পালিত হয়েছে, যেখানে তরুণ সমাজ স্বৈরাচারকে পরাজিত করে বৈষম্যহীন সমাজের পথ উন্মোচন করেছে। সেই অভ্যুত্থানই জনগণের হাতে রাষ্ট্র পুনর্গঠনের দায়িত্ব তুলে দিয়েছে।
ড. ইউনূস জানান, সরকার নির্বাহী আদেশে সংস্কার চালানোর সহজ পথ না নিয়ে অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই প্রক্রিয়া গ্রহণ করেছে। বিচার বিভাগ, শাসনব্যবস্থা, নির্বাচন, জনপ্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা, দুর্নীতি দমন ও নারী অধিকারসহ ১১টি খাতে স্বাধীন সংস্কার কমিশন গঠন করা হয়েছে।
এই কমিশনগুলোর সুপারিশ বাস্তবায়নে ৩০টিরও বেশি রাজনৈতিক দল ও জোটকে নিয়ে গঠিত হয়েছে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। এর মাধ্যমে গত জুলাইয়ে ‘জুলাই ঘোষণা’ দিয়ে সময়াবদ্ধ সংস্কার অঙ্গীকার করেছে সব দল।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “আগামী নির্বাচনে যে দলই ক্ষমতায় আসুক, সংস্কার বাস্তবায়নে কোনো অনিশ্চয়তা থাকবে না। বাংলাদেশের গণতন্ত্র আর কখনো হুমকির মুখে পড়বে না।”
তিনি আরও জানান, আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে। পাশাপাশি স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও আইনের শাসন নিশ্চিত করতে নাগরিকবান্ধব সংস্কার কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।



