ফেরারি আসামিদের প্রার্থীতা নিষিদ্ধের প্রস্তাব ইসির খসড়ায়
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১১:০১ এএম
ফাইল ফটো
আদালত ঘোষিত ফেরারি (পলাতক) আসামিদের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার সুযোগ বন্ধ করতে চায় নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সংশোধিত গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের (আরপিও) চূড়ান্ত খসড়ায় এমন প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
এ প্রস্তাব অনুযায়ী, ফেরারি আসামিদের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট আসনের কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি বা সদস্যও সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না।
বুধবার আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ। খসড়া ইতোমধ্যেই আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পেলে রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশের মাধ্যমে এটি কার্যকর হবে।
মূল প্রস্তাবগুলো:
ফেরারি আসামিদের সংসদ নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা।
কোনো আসনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি/সদস্য নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংজ্ঞায় সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীকে পুনঃঅন্তর্ভুক্ত করা।
একক প্রার্থী থাকলেও ‘না’ ভোট দেওয়ার সুযোগ থাকবে। ‘না’ ভোট জিতলে নতুন তফসিল।
সমভোট হলে লটারির পরিবর্তে পুনঃভোট।
প্রার্থীর মনোনয়নপত্রের সঙ্গে সর্বশেষ আয়কর রিটার্ন, সম্পদ ও আয়ের উৎসের বিবরণ জমা বাধ্যতামূলক।
মিথ্যা তথ্য প্রমাণিত হলে সংসদ সদস্যপদ বাতিল করার ক্ষমতা কমিশনের হাতে থাকবে।
পুরো আসনের ভোট বন্ধ করার ক্ষমতা পুনরায় ইসির কাছে ফিরিয়ে আনা।
নির্বাচনী ব্যয় ও অনুদান সংক্রান্ত নতুন বিধান: ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক অনুদানের সীমা সমানভাবে ৫০ লাখ টাকা। ৫০ হাজার টাকার বেশি অনুদান কেবল ব্যাংকিং চ্যানেলে গ্রহণযোগ্য।
প্রার্থীর জামানত ২০ হাজার থেকে বাড়িয়ে ৫০ হাজার টাকা।
জোটের প্রার্থীদের নিজ দলের প্রতীক ব্যবহার বাধ্যতামূলক।
নির্বাচনী এজেন্টকে অবশ্যই সংশ্লিষ্ট আসনের ভোটার হতে হবে।
ইভিএম-সংক্রান্ত সব বিধান বিলুপ্ত এবং পোস্টাল ব্যালট যুক্ত করার প্রস্তাব।
অনলাইনে মনোনয়নপত্র জমার বিধান বাতিল।
ভোট গণনার সময় সাংবাদিকদের উপস্থিত থাকার অনুমতি, তবে পুরো সময় উপস্থিত থাকতে হবে।
ইসি কমিশনার সানাউল্লাহ বলেন, ফেরারি আসামিদের প্রার্থীতা বাতিল করা সমসাময়িক বাস্তবতায় যৌক্তিক মনে হয়েছে। ভবিষ্যতে এর অপব্যবহার দেখা দিলে রিভিউ করা হবে।



