শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচার নিষিদ্ধ, আইন ভঙ্গ করলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেবে সরকার
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৩ আগস্ট ২০২৫, ১০:০৭ এএম
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
ফৌজদারী অপরাধে দণ্ডপ্রাপ্ত এবং গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত পলাতক আসামি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অডিও বা বক্তব্য প্রচারকে ২০০৯ সালের সন্ত্রাসবিরোধী আইনের গুরুতর লঙ্ঘন বলে সতর্ক করেছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।
শুক্রবার (২২ আগস্ট) বিকেলে সরকারের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশের কোনো টেলিভিশন, সংবাদপত্র বা অনলাইন প্ল্যাটফর্ম শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচার বা সম্প্রচার করলে তাৎক্ষণিকভাবে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, গত বছরের ডিসেম্বরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল প্রাক্তন স্বৈরশাসকের ঘৃণামূলক বক্তব্য প্রচার নিষিদ্ধ করেছিল। তবুও বৃহস্পতিবার কিছু গণমাধ্যম আইন ও আদালতের নির্দেশ উপেক্ষা করে ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার একটি ভাষণ প্রচার করেছে, যেখানে তিনি “মিথ্যা ও উস্কানিমূলক” বক্তব্য দেন। এ ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত গণমাধ্যম কর্মকর্তাদের কড়া সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।
সরকার বলেছে, জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের সময় শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের ওপর গণহত্যার নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগের পর শেখ হাসিনা বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে যান। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তাকে ইতোমধ্যেই দোষী সাব্যস্ত করেছে এবং তিনি মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বিচারাধীন আছেন। এছাড়া, আওয়ামী লীগের কার্যক্রম বাংলাদেশে নিষিদ্ধ এবং সন্ত্রাসবিরোধী আইন অনুযায়ী দলের নেতাদের কার্যকলাপ বা বক্তৃতা প্রচারকারীদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রয়েছে।
প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ন্যায়বিচার, জবাবদিহিতা ও গণতান্ত্রিক অখণ্ডতার ভিত্তিতে দেশকে ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে নিতে কাজ করছে বলে বিবৃতিতে জানানো হয়। একইসঙ্গে গণমাধ্যমগুলোকে শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচার থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়।
সরকার বলেছে, “তার মন্তব্য, বক্তৃতা এবং উসকানিমূলক বক্তব্য প্রচার বা পুনঃপ্রচার দেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণের স্থিতিশীলতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং জনগণকে বিভ্রান্ত করে। তাই যারা এ ধরনের প্রচারে জড়িত থাকবে, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।”



