ছবি : সংগৃহীত
আজ ১ জুলাই, গুলশানের হলি আর্টিসান বেকারিতে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ জঙ্গি হামলার ৯ বছর পূর্ণ হয়েছে। ২০১৬ সালের এদিন রাত পৌনে ৯টার দিকে রাজধানীর গুলশান-৭৯ নম্বর সড়কে অবস্থিত এই রেস্তোরাঁয় ভয়াবহ জঙ্গি হামলার ঘটনা ঘটে, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে নির্মম ও নৃশংস সন্ত্রাসী ঘটনার অন্যতম হিসেবে বিবেচিত।
নিষিদ্ধঘোষিত নব্য জেএমবির পাঁচ সদস্য অতর্কিতে বেকারিতে ঢুকে দেশি-বিদেশি অতিথিদের জিম্মি করে এবং পরে নির্বিচারে হত্যা করে ২২ জনকে, যাদের মধ্যে ১৮ জনই বিদেশি। নিহতদের মধ্যে ছিলেন ৯ জন ইতালির, ৭ জন জাপানি, ১ জন ভারতীয় ও ৩ জন বাংলাদেশি। নিহত তিন বাংলাদেশির মধ্যে একজনের ছিল দ্বৈত নাগরিকত্ব।
ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও স্পর্শকাতর পরিস্থিতির কারণে রাতভর অভিযান চালানো হয়নি। পরদিন সকালে সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে চালানো কমান্ডো অভিযানে পাঁচ হামলাকারী নিহত হয়। এই হামলা ঠেকাতে গিয়ে সাহসী ভূমিকা রাখা দুই পুলিশ কর্মকর্তা প্রাণ হারান।
হামলার দায় স্বীকার করে আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট (আইএস)। তাদের প্রচারমাধ্যম ‘আমাক’-এর মাধ্যমে তারা দাবি করে, নিহত পাঁচ জঙ্গি তাদেরই ‘সৈনিক’।
ঘটনার প্রায় তিন বছর পর, ২০১৯ সালের ২৭ নভেম্বর সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনাল এই মামলার রায় ঘোষণা করে। সাত আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়, আর একজনকে খালাস দেওয়া হয়। দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন—জাহাঙ্গীর হোসেন ওরফে রাজীব গান্ধী, আসলাম হোসেন ওরফে র্যাশ, আব্দুস সবুর খান, রাকিবুল হাসান রিগ্যান, হাদিসুর রহমান, শরিফুল ইসলাম ওরফে খালেদ ও মামুনুর রশিদ। খালাসপ্রাপ্ত আসামির নাম মিজানুর রহমান ওরফে বড় মিজান।
এই ঘটনার স্মৃতি আজও ভীতিকর ও বেদনাদায়ক, তবে তা একইসঙ্গে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা ও প্রহরীস্বরূপ থেকে গেছে।



